ভ্যাপসা গরমে ত্বকের যত্নে যা করবেন

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

জীবনযাপন ডেস্ক

বাংলার প্রকৃতিতে এখন শরৎ। তারপরও ভ্যাপসা গরমের হাত থেকে কোনো নিষ্কৃতি নেই। মেঘলা আকাশ আর মাঝেমধ্যে বৃষ্টি, গরমের ভ্যাপসা ভাব বাড়িয়ে দিচ্ছে। ঘাম আর বৃষ্টির জলে ভেজা জামাকাপড় থেকে ত্বকের নানা সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে, যদিও ঘাম হলে শরীরের তাপমাত্রা ঠিক থাকে। তাই ঘাম হওয়া ভালো। তবে শরীরের চাপা অংশে ঘাম জমে থাকলে ত্বকে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। ঘামের সঙ্গে ত্বকের যে সমস্যা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে, তা হলো ঘামাচি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় ঘামাচিকে বলে মিলিয়ারিয়া। ভ্যাপসা গরমে ঘাম ও ঘামাচির ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই চেষ্টা করবেন পাখার নিচে থাকাতে। কিন্তু বাড়াবাড়ি রকমের ঘামাচি হলে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা করানো উচিত।

এই গরমে শুধু ঘামাচিই নয়, ছত্রাকসহ অন্যান্য জীবাণুর সংক্রমণেরও ঝুঁকি থাকে। নিয়ম করে দিনে দুবার স্নান করে ও সুতির পোশাক পরলে ত্বক ভালো থাকে। ভ্যাপসা গরমে ঘাম জমে ত্বকের ওপর কালো, বাদামি বা সাদাটে ছোপ দেখা যেতে পারে। এসব বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ছুলি হতে পারে। ডাক্তারি পরিভাষায় ছুলির নাম পিট্রিয়াসিস ভার্সিকালার। ত্বকে নানা রঙের ছোপ দেখা যায় বলেই ভার্সিকালার নামকরণ।

কম বয়সিদের মধ্যে ছুলির সংক্রমণের প্রবণতা বেশি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ঘামে ভেজা শরীরে ছত্রাকের সংক্রমণ বেশি হয়। তাই ঘাম জমতে দেবেন না। তবে অনেক সময় স্টেরয়েড নিলে, ডায়াবেটিস থাকলে, কোনো গুরুতর অসুখের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে এবং অপুষ্টিতে ভুগলেও ছুলির সংক্রমণ হতে পারে। মুখে, গলায়, ঘাড়ে, পিঠে ছুলি বেশি দেখা যায়। ছুলির সংক্রমণ হলে অবশ্যই ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শে সঠিক চিকিৎসার পরামর্শ নিন। সাধারণত ছুলিতে কোনো ব্যথা অথবা জ্বালা থাকে না। কিন্তু ছুলির সঙ্গে অন্য কোনো সংক্রমণ হলে চুলকাতে পারে, জ্বালাও করে। শরীরে ঘাম জমে ছুলির সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। বৃষ্টিতে ভিজে সেই পোশাক গায়ে শুকালেও ছুলি হয়। তাই ঘাম জমতে দেবেন না। বৃষ্টিতে ভিজলে বাড়ি ফিরে হালকা সাবান মেখে স্নান করা উচিত। ছুলি আক্রান্ত অংশে অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে মাথাতে ঘাপটি মেরে বসে থাকা জীবাণু তাড়াতে অ্যান্টিফাঙ্গাল শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। এই কোভিড আবহে তো বটেই, এমনিতেও প্রত্যেকের সাবান ও গামছা বা তোয়ালে আলাদা হওয়া উচিত।

গামছা বা তোয়ালে এবং চিরুনি থেকেও ত্বকের জীবাণুঘটিত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই প্রত্যেকের উচিত আলাদা জিনিস ব্যবহার করা। ভ্যাপসা গরমে অ্যালার্জিসহ ত্বকের র‍্যাশ ও অন্যান্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। আঁটসাঁট অন্তর্বাস ও পোশাক থেকেও ত্বকের সংক্রমণ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ত্বকে সংক্রমণ হলে নিজে থেকে স্টেরয়েড-জাতীয় ক্রিম লাগিয়ে বিপদ বাড়াবেন না। ফরসা হওয়ার বাসনায় অনেকে স্টেরয়েড যুক্ত ক্রিম মাখেন। এতে সাময়িকভাবে চকচকে মনে হলেও ত্বক অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মনে রাখবেন ত্বক ভালো রাখার সেরা উপায় পরিচ্ছন্নতা। হালকা সুতির পোশাক ও নিয়মিত মৃদু সাবান মেখে স্নান, ত্বক ঝকঝকে রাখার আসল চাবিকাঠি। ত্বক ভালো রাখতে পুষ্টিকর খাবার খান ও পরিচ্ছন্নতা মেনে চলুন।

সূত্র : আনন্দবাজার

 

 

"