নিজস্ব প্রতিবেদক
বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার দুদিন পর বঙ্গভবন ছেড়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। গতকাল রবিবার দুপুর আড়াইটার আগে সাহাবুদ্দিনের গাড়িবহর বঙ্গভবন ত্যাগ করে। রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন ছেড়ে গুলশানের নিজের ফ্ল্যাটে উঠেছেন তিনি।
শারীরিক অসুস্থতা ও দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে গত শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মো. সাহাবুদ্দিন। তারপর থেকেই জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের পর শুক্রবার বিকেলে গুলশান-১-এর ১২৩ নম্বর রোডের ‘গ্রিন ভিলা’ নামে সাহাবুদ্দিনের বাসায় নতুন টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এ বাড়ির পঞ্চম তলায় সাহাবুদ্দিনের ফ্ল্যাট। প্রসঙ্গত, বিদায়ি রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাহাবুদ্দিন ৬ মাস এসএসএফ নিরাপত্তা পাবেন।
এদিকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, তিনি দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বঙ্গভবনে, তবে বসবাস করবেন জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে স্পিকারের সরকারি বাসভবনে। গত শনিবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। এরই মধ্যে সংসদ প্রাঙ্গণে স্পিকারের সরকারি বাসভবন এবং আশপাশের এলাকায় রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেল থেকেই এ নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। অন্যদিকে শনিবারই আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, আগামী সেপ্টেম্বরে বসতে যাওয়া জাতীয় সংসদের নিয়মিত অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। আইনমন্ত্রী জানান, নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের জন্য আলাদা কোনো বিশেষ অধিবেশন ডাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে। সেই অনুযায়ী, সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
সদ্যসাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতির মামলা সম্পর্কিত ইস্যুতে এ মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। আইনমন্ত্রী আরো জানান, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলিতে চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলনে আহত আটজনের বিরুদ্ধে করা মামলা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন ‘তদন্তে যদি দেখা যায় এ মামলাগুলো মিথ্যা, তবে তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।’
"









































