ইরানের সেরা ক্ষেপণাস্ত্র আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে!
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন

সাম্প্রতিক হামলায় ইরান তাদের সস্তা, সহজে বহনযোগ্য ও নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম ‘খাইবার শেকান’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলোতে এই ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালাচ্ছে ইরান। অন্তত ১,৪০০ কিলোমিটার দূরে নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র।
মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এই তথ্য জানিয়েছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, কঠিন জ্বালানিচালিত এই মাঝারি পাল্লার খাইবার শেকান ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পুরনো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে আলাদা। কারণ পুরনো ক্ষেপণাস্ত্রগুলোতে উৎক্ষেপণের আগে জ্বালানি ভরতে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হতো। অন্যদিকে, খাইবার শেকান ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে আগে থেকেই জ্বালানি ভর্তি করে রাখা যায়। উৎক্ষেপণের জন্য এগুলো দ্রুত ট্রাক বা অন্য কোনো যানবাহনে তুলে নেওয়া যায়। এর ফলে এগুলো ধ্বংস করতে ওঁৎ পেতে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানকে ফাঁকি দেওয়া সহজ হয়। যুদ্ধজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা বেশিরভাগ খাইবার শেকান গুলি করে নামাতে সক্ষম হয়েছে। তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, অন্তত কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষমম হয়েছে তারা।
কর্মকর্তাদের মতে, মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে ইরান বিভিন্ন ধরনের উড়াল পথ, কৌশল ও গতি ব্যবহার করছে।
খাইবার শেকান ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তৎক্ষণাৎ দিক পরিবর্তনের ক্ষমতা থাকায় অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে ধ্বংস করা কঠিন। এর কিছু সংস্করণের সামনের অংশ অর্থাৎ বিস্ফোরক ওয়্যারহেড বহনকারী নাকের দিকে ছোট ইঞ্জিন থাকে। উড্ডয়নের শেষ ধাপে এটি মূল ক্ষেপণাস্ত্র থেকে আলাদা হয়ে যায়। এটি ঘণ্টায় প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার গতিতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় নিজের গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম বলে ডব্লিউএসজে লিখেছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানান, ইরান খাইবার শেকান উৎক্ষেপণের পাশাপাশি উচ্চগতির আক্রমণাত্মক ড্রোন ও কম উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র একসঙ্গে ব্যবহার করছে। এগুলো দিয়ে তারা এই অঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের আবাসন এলাকা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সাবেক প্রধান আর্মি জেনারেল জোসেফ ভোটেলাকে উদ্ধৃত করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমি মনে করি এটি আমাদের এই বার্তাই দেয় যে, ইরান মনোযোগ দিচ্ছে, তারা শিখছে এবং কীভাবে আমাদের ওপর আঘাত হানা যায় সেই পথগুলো খুঁজছে।
তিনি আরও বলেন, এটি এমন এক সামরিক বাহিনী যাদের ড্রোন সক্ষমতা বেশ উন্নত; দীর্ঘকাল ধরে তাদের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট কর্মসূচি রয়েছে। এই ক্ষেত্রে তাদের প্রচুর দক্ষতা রয়েছে।
মার্কিন ও ইসরায়েলি হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের কাছে ২ হাজার ৫০০টি খাইবার শেকান ও অন্যান্য মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছিল বলে ধারণা করা হতো। তবে তারা এখন ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিগুলোতে থাকা সরঞ্জাম থেকে আরও ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন করে থাকতে পারে। অবশ্য ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন তৈরির উৎপাদন কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করা হয়েছে বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন স্বতন্ত্র ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ ফ্যাবিয়ান হিনৎস।
হিনৎসের মতে, ক্ষেপণাস্ত্র যাতে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারে তার সম্ভাবনা বাড়াতে ইরান সম্ভবত আগের উৎক্ষেপণগুলো নিয়ে গবেষণা করেছে।হিনৎস ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, ইরান দেখেছে, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অতিক্রম করার জন্য কোন ধরনের দিক পরিবর্তন কৌশল সবচেয়ে কার্যকর। প্রতিটি সামরিক ব্যবহার আপনাকে কিছু না কিছু তথ্য দেয়, তাই এটি ইরানিদের জন্য খুব দরকারী।
ইরান খাইবার শেকানের নির্মাণ খরচ প্রকাশ করেনি। তবে বিশ্লেষকরা বলেছেন, এগুলো প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যেসব ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে—যেগুলোর খরচ সিস্টেমভেদে ২ মিলিয়ন থেকে ১৫ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে—তার চেয়ে খাইবার শেকান অনেক সস্তা।
ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরান তাদের দিকে যেসব খাইবার শেকান ছুড়েছিল তার বেশিরভাগই তারা গুলি করে নামিয়েছে। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়সহ গত মাসে এই ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আরেকটি হামলা চালিয়েছিল।









































