প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ২৬ জুলাই, ২০২৬

ছাত্র-জনতার বিজয়

পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং বিরোধী দলগুলোর ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে অবশেষে গতকাল শনিবার দুপুরে পদত্যাগ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে ধর্মেন্দ্র নিজে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের দাবি মেনে নেয়ার পর চলমান আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। একই সঙ্গে সরকার শিক্ষার্থী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ও জে পি নাড্ডা এবং সিজেপির মুখপাত্র অশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এক মাসের বেশি সময় ধরে নয়াদিল্লির যন্তর-মন্তর ঘিরে শিক্ষার্থীরা তীব্র আন্দোলন করে আসছেন। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে এ আন্দোলন গড়ে উঠেছে। সারা দেশ থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে সমর্থন জানান। গত শুক্রবার দুপুরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠক করেন। সিজেপি তিনটি দাবি উত্থাপন করেছে।

এগুলো হলো শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্টের (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ। আন্দোলনকারীদের দুটি প্রধান দাবিতে নীতিগতভাবে সম্মতি দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। সেগুলো হলো বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া। তবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকেন শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার সিজেপির নেতারা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই পক্ষের মধ্যে তৃতীয় দফার বৈঠক হওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়। তবে বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। পদত্যাগ করে ভারতের কেন্দ্রীয় বিদায়ি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিন্দি ভাষায় দেওয়া এক বার্তায় উল্লেখ করেন, বিষয়টি তার জন্য ‘ব্যক্তিগত মর্যাদার লড়াই’ ছিল না। আমার তরুণ বন্ধুরা, চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আমি শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং শিক্ষা সংস্কারের কাজে আত্মনিয়োগ করেছি। আমি সবসময় বিশ্বাস করেছি, একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং দূরদর্শী শিক্ষাব্যবস্থাই একটি সমৃদ্ধ জাতির মূল ভিত্তি।

আমি দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি ও যৌক্তিক প্রত্যাশাকে গভীর শ্রদ্ধা জানাই। ভারতের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নপূরণ করা আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের একটি নৈতিক অঙ্গীকার ছিল। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশকে সেবা করার সুযোগ দেওয়ায় আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তবে ২০২৬ সালের ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষায় কিছু অনিয়ম প্রকাশ্যে আসে। তাৎক্ষণিক বিষয়টি আমলে নিয়ে ভারত সরকার সিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়, পরীক্ষা বাতিল করে এবং পুনরায় পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে। পাশাপাশি আগামী বছর থেকে এ পরীক্ষা সিবিটি (কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষা) পদ্ধতিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ সময়জুড়ে আমাদের মূল অগ্রাধিকার ছিল ২০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর পরীক্ষা যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। কেন্দ্র সরকার, রাজ্য সরকার এবং বিশেষ করে জেলা প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব হয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় গত ২০২৬ সালের ২১ জুন পরীক্ষাটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। প্রথম দিন থেকেই আমি পুরো দায়ভার নিজের কাঁধে নিয়েছি এবং কখনোই পরিস্থিতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিইনি। আমি সংকল্পবদ্ধ ছিলাম যাতে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ পরীক্ষা মাফিয়াদের কারণে নষ্ট না হয় এবং কারো ওপর কোনো অন্যায় না ঘটে। গত ১৬ জুলাই প্রকাশিত নিট-ইউজি পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক ছিল, যেখানে বঞ্চিত পটভূমি থেকে আসা অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী সাফল্য অর্জন করেছে।

তবে এ সময়েও দায়িত্বশীল পদে থাকা কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে, যা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। আমি সবসময় আমাদের গণতন্ত্রের শক্তিতে অটল বিশ্বাস রেখেছি এবং তরুণদের আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন ও প্রত্যাশাকে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করেছি। তারা শুধু ভারতের ভবিষ্যৎ নয়, তারা নতুন ও উন্নত ভারতের মূল রূপকার ও পথপ্রদর্শক। গত ১০ দিনের ঘটনাবলিতে আমি ব্যথিত। এটি আমার জন্য কোনো ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় নয়। ভারতের যুবশক্তিই এদেশের প্রকৃত শক্তি। দেশের তরুণরা যেন কোনো বিভ্রান্তির জালে জড়িয়ে না পড়ে, সেটিই আমার সংকল্প।

যন্তর-মন্তরসহ সারা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে যাতে দেশবিরোধী কোনো শক্তি এটিকে কাজে লাগাতে না পারে, জাতীয় ঐক্য বজায় থাকে, আইনি জটিলতায় পড়ে কোনো ভারতীয় শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেন নষ্ট না হয় এবং আমাদের সন্তানরা যাতে পড়াশোনায় মনোযোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গঠনে মনোনিবেশ করতে পারে, সেসব দিক বিবেচনা করে আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা, বিশ্বাস ও নিরবচ্ছিন্ন সমর্থনের জন্য আমি তার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদের আমার সব সহকর্মী, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং যাদের সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। দেশের সেবা করা আমার জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার; আমি চিরকাল এ কাজে উৎসর্গীকৃত থাকব। প্রভু জগন্নাথের কৃপায় আগামীতেও ভারতমাতা, ঊড়িষ্যার জনগণ এবং দেশের তরুণদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমি সব উপায়ে নিজেকে উৎসর্গ করে যাব।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়