নিজস্ব প্রতিবেদক
ভোটকেন্দ্রে কার কী দায়িত্ব

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রে রিটার্নিং অফিসার থেকে শুরু করে পোলিং অফিসার পর্যন্ত লক্ষাধিক নির্বাচনী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। এদের মধ্যে আছেন ৬৬ রিটার্নিং অফিসার, ৫৯২ সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং ৪২ হাজার ১৪৯ প্রিসাইডিং অফিসার। এবার জেনে নেওয়া যাক কার কী দায়িত্ব-
রিটার্নিং অফিসার : নির্বাচন পরিচালনায় সাংবিধানিকভাবে সর্বেসর্বা তিনি। প্রার্থীদের মনোনয়ন বাছাই, মনোনয়ন বাতিল, প্রার্থীর বৈধতা কিংবা প্রতীক বরাদ্দ- পুরো ভোট প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধান করেন রিটার্নিং অফিসাররা। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন (ইসি) যেসব নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেয়, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকে রিটার্নিং অফিসারদের ওপর। এছাড়া প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের তালিকা তৈরি ও ভোটকেন্দ্র নির্বাচনের দায়িত্বও থাকে তাদের ওপর। এছাড়া নির্বাচন শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে যে ফল আসে, তা একসঙ্গে করে রিটার্নিং অফিসার চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করেন।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার : রিটার্নিং অফিসারের সহায়ক হিসেবে কাজ করেন সহকারী রিটার্নিং অফিসার। সাধারণত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা ইউএনওদের সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। একজন রিটার্নিং অফিসারকে যেসব দায়িত্ব পালন করতে হয়, তা এগিয়ে নিতে সাহায্য করেন সহকারী রিটার্নিং অফিসার। প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রিসাইডিং অফিসার কারা হবে, ভোটের দায়িত্ব কারা পালন করবে- এ ধরনের তালিকা প্রস্তুত করতে রিটার্নিং অফিসারকে সাহায্য করেন সহকারী রিটার্নিং অফিসার।
প্রিসাইডিং অফিসার : ব্যালট বাক্স, কাগজ, কালি, সিলসহ নানা নির্বাচনী সরঞ্জাম সংগ্রহ করে কেন্দ্রে আনার দায়িত্ব থাকে প্রিসাইডিং অফিসারের ওপর। তিনি কোনো ভোটকক্ষে উপস্থিত থাকেন না। সার্বিক কেন্দ্রের দায়িত্ব থাকে তার ওপর। ভোটের সময় আলাদা কক্ষের জন্য সরঞ্জাম বণ্টন এবং প্রস্তুতির নেতৃত্ব দেন তিনি। সাধারণত সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ভোট গ্রহণে নির্বিঘ্ন করতে এবং একইসঙ্গে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের সব দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন তিনি।
সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার : একটি কেন্দ্রে একাধিক বুথ বা ভোটকক্ষ থাকে। আর প্রতিটি ভোটকক্ষের দায়িত্বে থাকেন একজন করে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার। সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার মূলত প্রিসাইডিং অফিসারের অধীনে কাজ করেন এবং তাকে সাহায্য করে থাকেন। বরাদ্দ কক্ষে পোলিং অফিসারসহ সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার বসেন এবং কোনো ভোটার কেন্দ্রে ঢুকলে তার পরিচয় শনাক্ত করেন। এছাড়া ভোটগ্রহণ শেষ হলে সব ব্যালট বক্স নিয়ে এক জায়গায় জড়ো করে ভোট গোনার কাজও করেন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসাররা।
পোলিং অফিসার : প্রত্যেক ভোটকক্ষে একজন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের সঙ্গে দুজন করে পোলিং অফিসার থাকেন। সাধারণত ভোটকক্ষে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের সহায়তার জন্যই তারা নিয়োজিত থাকেন। পোলিং অফিসারদের কাজই থাকে ভোটার তালিকা দেখে ভোট দিতে আসা ভোটারদের শনাক্ত করা। এ সময় উচ্চৈঃস্বরে ভোট দিতে আসা ব্যক্তির নাম বলেন পোলিং অফিসার। যদি কোনো পোলিং এজেন্ট আপত্তি না করেন, তবে পোলিং অফিসার ওই ব্যক্তির হাতে অমোচনীয় কালি দিয়ে দাগ দিয়ে দেন- যাতে করে সহজে ভোট দাতাকারীদের চিহ্নিত করা যায়।
পোলিং এজেন্ট : ভোট পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতিটি ভোটকক্ষে প্রার্থীর একজন করে প্রতিনিধি উপস্থিত থাকেন, তাদের বলা হয় পোলিং এজেন্ট। তারা পোলিং অফিসারদের ভোটার শনাক্তে সাহায্য করেন। ভোটগ্রহণের আগে ব্যালট বাক্স যে খালি আছে, সেটাও পোলিং এজেন্টেদের দেখাতে হয়। আবার ভোট গ্রহণ শেষে ভোট গোনার সময়ও পোলিং এজেন্ট উপস্থিত থাকেন।
"






































