নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলে ধর্ষণ মামলা
৮০ হাজার টাকায় আপস, ৯ মাতবর জেলহাজতে

নড়াইলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের মামলা মীমাংসাকারী মাইজপাড়া ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি সলেমান মোল্লাসহ ৯ সালিসকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আটক অন্যরা হলেন ইউপি মেম্বার সবুর মোল্লা, মাতব্বর মোনায়েম শেখ, আবু তাহের, বক্কার মোল্লা, আজিজার মোল্লা, আমজাদ মোল্লা, সুপ্রেম আলম ও আলী মিয়া। গতকাল শনিবার ভোরে পুলিশ সালিসকারীদের আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। জানা গেছে, গত ২ ডিসেম্বর দুপুরে বোড়ামাড়া আমজাদ মুন্সি পাশের বাড়ির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। এরপর ধর্ষক আমজাদ মুন্সি পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় শিশুটির বাবা খুলনায় এবং মা পাশের গ্রামে ছিল। এ ঘটনায় ৩ ডিসেম্বর ধর্ষণের শিকার শিশুটির বোন মাবিয়া বাদী হয়ে সদর থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। এ ঘটনার পর থেকে আসামি আমজাদ মুন্সি পলাতক।
গত বৃহস্পতিবার ধর্ষক আমজাদ মুন্সির বাড়িতে এক সালিসে সোলেমান মোল্লার সভাপতিত্বে এ ছাত্রীর ধর্ষণ ঘটনার বিচার ৮০ হাজার টাকায় ফয়সালা হয়।
ধর্ষণের শিকার বোড়ামারা গ্রামের শিশুটির বাবা (প্রতিবন্ধী) জানান, সালিসের সভাপতি সলেমান মোল্লার কাছ থেকে তিনি ৭০ হাজার টাকা বুঝে পেয়েছেন। শুনেছি ১০ হাজার টাকা সালিসদাররা পাবেন আর পুলিশ মিটাবে আসামিরা। মামলা প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, ঘটনা শুনে আমার মাথা ঠিক ছিল না, তাই মামলা করেছি, এখন গ্রামের লোকের চাপে সালিসে মীমাংসা করতে বাধ্য হয়েছি।
ধর্ষক আমজাদের স্ত্রী পিয়ারী বেগম বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে ৮০ হাজার টাকায় গ্রাম্য মাতব্বরা সালিস মীমাংসা করেছেন। রোববার পুলিশের মাধ্যমে এ মামলা মেটানোর কথা। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নড়াইল সদর থানার এস আই মাসুদ রানা বলেন, এ ধরনের মামলা আপসযোগ্য নয়। আমরা যথানিয়মে মামলার চার্জ দেব। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, গ্রাম্য মাতব্বররা সালিসে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে টাকা তুলতে পারে, তবে পুলিশের জড়িত থাকার সুযোগ নেই। সালিসকারীদের গ্রেফতার দেখিয়ে জেলহাজতে রাখা হয়েছে।
"








































