ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফুটবল-২০২৬
লাতিন পরাশক্তির সামনে লড়াকু স্কটল্যান্ড

বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে এবার এক চরম রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ভোররাতে মায়ামির ঐতিহাসিক ‘হার্ড রক স্টেডিয়ামে’ গ্রুপ ‘সি’র হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও লড়াকু স্কটল্যান্ড। স্কটিশদের সামনে এ ম্যাচটি শুধু একটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ নয়, বরং নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যাওয়ার এক সোনালি সুযোগ।
গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচের একটিতে হাইতিকে হারিয়ে এবং মরক্কোর সঙ্গে ড্র ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে আছে স্টিভ ক্লার্কের দল। ব্রাজিলের বিপক্ষে মাত্র ১টি পয়েন্ট বা ড্র করতে পারলেই প্রথমবারের মতো শেষ ৩২-এর টিকিট প্রায় নিশ্চিত করে ফেলবে স্কটল্যান্ড। এর আগে আটবার বিশ্বকাপে অংশ নিলেও কখনোই গ্রুপ পর্বের বাধা পার হতে পারেনি তারা। তাই অ্যান্ডি রবার্টসনের নেতৃত্বাধীন দলটির সামনে এবার ইতিহাস নতুন করে লেখার হাতছানি। অন্যদিকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থাকা ব্রাজিল এ ম্যাচ থেকে যেকোনো ইতিবাচক ফল (ড্র বা জয়) পেলেই পরের রাউন্ড নিশ্চিত করবে। কার্লো আনচেলত্তির অধীনে থাকা সেলেসাওরা প্রথম ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলে ওড়ালেও, মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে।
তবে ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনিয়া এবং অভিজ্ঞ নেইমার নিয়ে নিয়ে গড়া ব্রাজিলের আক্রমণভাগ যেকোনো রক্ষণভাগ ভেঙে চুরমার করতে সক্ষম। বিশ্বকাপের মঞ্চে এ দুদলের অতীত ইতিহাস পুরোপুরি ব্রাজিলের পক্ষে কথা বলছে। বিশ্বকাপে চারবারের দেখায় তিনবারই জিতেছে ব্রাজিল, অন্য ম্যাচটি ড্র হয়েছে। স্কটল্যান্ড কখনোই বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে হারাতে পারেনি। সর্বশেষ ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে এ দুদল মুখোমুখি হয়েছিল, যেখানে ব্রাজিল ২-১ ব্যবধানে জয়ী হয়। স্কটিশদের জন্য একমাত্র অনুপ্রেরণা হতে পারে ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপ, যেখানে তারা ব্রাজিলকে গোলশূন্যভাবে রুখে দিয়েছিল।
স্কটল্যান্ড শিবিরে বড় কোনো ইনজুরি সমস্যা নেই। মাঝমাঠে স্কট ম্যাকটমিনে এবং জন ম্যাকগিন থাকবেন দলের মূল ভরসা। অধিনায়ক অ্যান্ডি রবার্টসন রক্ষণভাগ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণ তৈরিতে ভূমিকা রাখবেন। তবে স্ট্রাইকার পজিশনে চে অ্যাডামস বা লিন্ডন ডাইকসের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত গোলের খোঁজে থাকবেন কোচ স্টিভ ক্লার্ক। ব্রাজিল দলে ভিনিসিয়াস ও রাফিনিয়া দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। মাঝমাঠে লুকাস পাকেতা ও ব্রুনো গিমারায়েসের সঙ্গে অভিজ্ঞ কাসেমিরো মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করবেন। রক্ষণে থাকবেন মার্কিনহোস ও গ্যাব্রিয়েল মাগালাহায়েস।
ম্যাচের মূল আকর্ষণ হতে পারে স্কটল্যান্ডের হাই-প্রেসিং মিডফিল্ড বনাম ব্রাজিলের বিল্ডআপ গেমের লড়াই। ম্যাকটমিনে ও ম্যাকগিন চাইবেন ব্রাজিলের ডিফেন্ডারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে বল কেড়ে নিতে। তবে মার্কিনহোস ও গ্যাব্রিয়েল চাপের মুখেও বল পায়ে দারুণ শান্ত থাকেন। স্কটল্যান্ডের প্রেস ভেঙে ব্রাজিল যদি বল বের করে নিতে পারে, তবে ভিনিসিয়াস ও রাফিনিয়ার গতি স্কটিশ ডিফেন্ডারদের জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে। শক্তির বিচারে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল এ ম্যাচে স্পষ্ট ফেভারিট। স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে ব্রাজিল ম্যাচটি জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই পরের রাউন্ডে যাবে বলে ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে ইতিহাস গড়ার তাড়না নিয়ে মাঠে নামা স্কটল্যান্ড সহজে ছেড়ে কথা বলবে না।
"








































