নিজস্ব প্রতিবেদক

  ৯ ঘণ্টা আগে

জামায়াতের মিছিল থেকে সাংবাদিকদের মারধর

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে সাংবাদিকসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। মারধরের শিকার এক সংবাদকর্মী অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামীর একদল নেতাকর্মী তার ওপর হামলা চালান। জামায়াতের এক নেতা বলেন, ‘ভুল বোঝাবুঝি’ থেকে এ ঘটনা ঘটেছে, তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রত্যদর্শীরা জানান, জুলাই অভ্যুত্থানে মতাচ্যুত বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলে সকাল সাড়ে ৮টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বিােভ মিছিল করে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দেিণর ধানমন্ডি জোন। কর্মসূচিতে জামায়াত নেতা মুস্তাফিজুর রহমান, মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন, আনিসুজ্জামান ও জাহিনুর রহমানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মিছিল শেষে ব্রিফিংয়ে এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধকে ঘিরে সাংবাদিক ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন নেতাকর্মী সাংবাদিকদের ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ বলে মন্তব্য করেন। এর প্রতিবাদ করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে মাহফুজুর রহমান শিশির গুরুতর আহত হন। তার মুখ দিয়ে রক্ত ঝরতে দেখা যায়। এছাড়া মারধরে আহত হন কালবেলার সংবাদকর্মী আবদুর রহমান ইশান ও যমুনা টিভির রিপোর্টার রাব্বী সিদ্দিকীসহ কয়েকজন। পরে ঘটনাস্থলে থাকা অন্য সাংবাদিকরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন সংবাদকর্মী জানান, সকাল সাড়ে ৮টায় কলাবাগান থেকে জামায়াতের মিছিল বের হয়। মিছিলটি সোবহানবাগ মসজিদ এলাকা ঘুরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে এসে শেষ হয়। মিছিলের পরে সমাবেশ যখন চলছিল, তখন বক্তব্য সংপ্তি করতে বলেন সাংবাদিকরা। এতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা চটে যান। তখন মাহফুজুর রহমান শিশির নামে এক সংবাদকর্মীকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তার ওপর হামলা করা হয়। এ সময় আরো চার-পাঁচজন সাংবাদিক আহত হন। হামলার পর মাহফুজুর রহমান শিশিরকে অন্য সাংবাদিকরা উদ্ধার করে কাছের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসা শেষে তাকে বাসায় পাঠানো হয়। মাহফুজুর রহমান শিশির দুপুরে মুঠোফোনে বলেন, ‘মিছিল শেষ করে জামায়াতের নেতারা বক্তব্য দিচ্ছিলেন। হাজারীবাগ থানার আমীর যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন টিভির ক্যামেরাম্যানরা তাদের বলছিলেন, সবাই বক্তব্য না দিয়ে মূল বক্তা যেন বক্তব্য দেন। সবাই বক্তব্য দিলে আমরা সেটি নিউজে ধরাতে পারব না। তখন হাজারীবাগ থানার আমীর বলেন, ‘আমরা সবাই বক্তব্য দেব, আপনারা থাকলে থাকেন, না থাকলে নাই। আপনাদের দরকার নাই।’

সে কথার প্রতিক্রিয়া জানানোয় তার ওপর হামলা হয় বলে জানান মাহফুজুর রহমান শিশির। তিনি বলেন, ‘আমি তখন প্রতিবাদ করে বলি, আপনারা এভাবে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন না। আমরা তো সাংবাদিক, আপনাদের কর্মী নই। এরপর কয়েকজন এসে আমার আইডি কার্ড চেক করে। আমি আইডি কার্ড পকেট থেকে বের করার আগেই স্বৈরাচারের দোসর আখ্যা দিয়ে মারধর শুরু করে। এরপর আমি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে দ্বিতীয় দফায় আমার ওপর হামলা করা হয়।’ এ সাংবাদিক জানান, এ ঘটনার পর জামায়াতের ঢাকা মহানগর দেিণর সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন ও সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন তার খোঁজ নিয়েছেন এবং এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

ঢাকা মহানগর দণি জামায়াতের মিডিয়া বিভাগের পরিচালক আশরাফ ইমন বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। তার দাবি, মিছিল শেষে দ্রুত কর্মসূচি শেষ করার জন্য কয়েকজন সাংবাদিক চাপ দিচ্ছিলেন। তখন বোঝা যাচ্ছিল না কে সাংবাদিক আর কে নয়। তারপর বাগবিতণ্ডা থেকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এজন্য জামায়াত দুঃখ প্রকাশ করছে। সেইসঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, সেখানে বাগবিতণ্ডা হয় এবং তখনই সেটা নিষ্পত্তি হয়ে যায় বলে শুনেছি। কেউ আহত হয়ে থাকলে দুঃখজনক। আমরা খোঁজ নিচ্ছি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়