জনপ্রতিনিধি হওয়া সহজ কাজ নয়

জনপ্রতিনিধি হওয়ার একমাত্র ব্যারোমিটারের নাম জনগণ। প্রতিনিধিকে নিদেনপক্ষে তিনটি গুণাবলি অর্জন করতে হয়। যার একটি জনগণের আস্থা। ভালোবাসা ও সমর্থন আস্থারই সমার্থক। বাহ্যিকভাবে মনে হতে পারে কাজটি কঠিন নয়। কিন্তু বাস্তবতা এর বিপরীত। একজন মানুষের ওপর আস্থা আকাশ থেকে উড়ে আসে না। অর্জনকারীকে দিনের পর দিন অপেক্ষায় থাকতে হয়। দিনের পর দিন তাকে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হয়। আর এই কাজের মাধ্যমে মানুয়ের কাছে তিনি বিশ্বস্ত হয়ে ওঠেন। বিশ্বাস ঘনীভূত হয়। আস্থার জায়গা তৈরি হয়। তিনি অর্জন করেন প্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যতা।
বিষয়টির অনেকটা নির্ভর করে সময় ও পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর। বাস্তবতাও সেই কথা বলে। ভোগবাদী সমাজে পরিবেশটা কখনোই পক্ষে থাকে না। লুটেরা পুঁজির দাপটের সামনে বিষয়টি আরো কঠিন হয়ে পড়ে। আমাদের পরিবেশ ও পরিস্থিতি এর বাইরে যেতে পারেনি। আর সে কারণে যোগ্য ব্যক্তিদের জনপ্রতিনিধি হওয়াটা কষ্টকর হয়ে ওঠে। টাকার আধিপত্যের কাছে তাদের পরাজয় মেনে নিতে হয়। মেনে নিলেও কথা থেকে যায়। প্রকৃত জনপ্রতিনিধি হতে হলে নিজেকে একজন ত্যাগী মানুষের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়। ভালোবাসা অর্জনের অন্যতম অস্ত্রের নাম ত্যাগ। সম্ভবত ষড়্রিপুকে দমন করে দাঁড়াতে পারাটাই আস্থা অর্জনের সেরা উপায়।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী (এলজিআরডি) মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘জনগণের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখলে বারবার জনপ্রতিনিধি হওয়া যায়। আর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারলে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করা যায়।’ বাক্যদ্বয়ের সঙ্গে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই। আমরাও সেভাবে চিন্তা করি। তবে একটু যুক্ত করে বলতে চাই, জনপ্রতিনিধিদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করার জন্য জনপ্রতিনিধিকে আগে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়। এই প্রস্তুতি তার বেড়ে ওঠা সময়কাল। মানবকল্যাণের কথা মাথায় রেখে যদি তার বেড়ে ওঠা সামনের দিকে এগিয়ে যায় তবেই তার প্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যতা পরিপূর্ণতা পায়। তিনি সমাজে আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে সমাদৃত হন।
কোনো পাইলট প্রকল্প নয়। বিষয়টিকে হতে হবে জীবন-প্রকল্পাধীন। এখানে শর্টকাটের কোনো সুযোগ নেই। এলজিআরডি মন্ত্রী আরো বলেন, ‘যারা মানুষের প্রতি অন্যায়-অবিচার ও অত্যাচার করবে, সুশাসন ও ন্যায়বিচারের বদলে দুঃশাসন প্রতিষ্ঠা করবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে এরকম ঘোষণা আমাদের সাহস জোগায়, আন্দোলিত করে। মনে করিয়ে দেয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং অর্জিত স্বাধীনতাকে। অনুদান এবং অর্জন এককথা নয়। বিপরীত মেরুতে তাদের নিজ নিজ অবস্থান। আমরা কারো কোনো অনুদান গ্রহণ করিনি। স্বাধীনতা আমাদের অর্জন। এ অর্জনকে ধরে রাখতে হলে এখনো অনেক ত্যাগ স্বীকারের প্রয়োজন রয়েছে। আর সেই ত্যাগীরাই হবেন আমাদের যোগ্য জনপ্রতিনিধি।
কিন্তু বাস্তবতার অবস্থান এখন অন্য রকম। যেখানে ভোগবাদী সমাজের এক উন্মুক্ত বাজার। যে বাজারে মানুষের বোধ ক্রয়-বিক্রয় হয়। এমন পরিবেশে যোগ্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করা সহজ কাজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন জনগণের বোধকে শানিত করা। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে শানিত করবে কে? স্বাধীনতার প্রশ্নে বঙ্গবন্ধুকে আমরা পেয়েছি। এ মুহূর্তে তার পথচলাকে অনুসরণ করলে সেই কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে বাংলাদেশ সক্ষম হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।
"




































