অনলাইন ডেস্ক
  ১৭ জানুয়ারি, ২০২১

বিষমুক্ত সবজি আবাদে ত্রিশাল অনুকরণীয়

বর্তমান পৃথিবী আর অতীত পৃথিবীর মাঝে অনেক ফারাক। এই ফারাক তৈরিতে একমাত্র ভূমিকা মানব সম্প্রদায়ের। তারাই ফারাক তৈরির অন্যতম আসামি। ভোগবাদী আকাক্সক্ষাই মানুষকে এ কাজে উদ্বুদ্ধ করেছে। তাকে সাহায্য করেছে প্রযুক্তি। তবে প্রযুক্তির এখানে কোনো দোষ নেই। ভূমিকাও নেই। ভূমিকা মানুষের। মানুষই সিদ্ধান্ত নেয় তারা প্রযুক্তিকে কীভাবে ব্যবহার করবে। মানবজাতির কল্যাণে না বিপরীতে। আর ভোগবাদী চিন্তা যখন মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, প্রযুক্তি কল্যাণের পথ পরিহার করে। তখনই নেমে আসে বিপর্যয়। বর্তমান বিশ্ব তাই নান্দিকতার সব উপসর্গ ভুলে ধ্বংসযজ্ঞের হোলিখেলায় মেতে উঠেছে। এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে এই বিপর্যয়ের চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে ভোগবাদী সমাজ তার নিজস্ব পথে চলতে চলতে আজ এমন একপর্যায়ে উপনীত হয়েছে যে, নিজের হাতে গড়া সভ্যতা তাকে গ্রাস করতে এগিয়ে আসছে। এ ব্যাপারে সম্বিৎ ফিরে না আসলেও তাকে যে ভাবনায় ফেলেছে, এ কথা বেশ জোর দিয়েই বলা যায়। পারিপার্শ্বিক চিত্রও বলছে সেই কথা। তাই এই সাবধানতা।

মানুষ এখন ঝুঁকছে অর্গানিক (জৈব) খাবারের দিকে। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই এ আচরণ। চাহিদাও বাড়ছে। জৈব প্রযুক্তিতে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের দামও তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে অতিরিক্ত মাত্রায় রাসায়নিক সার ও বালাইনাশক ব্যবহারে তৈরি হচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। দূষিত হচ্ছে মাটি, পানি ও বাতাস। দূষণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। এখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বিশ্বজুড়ে জন্ম নিয়েছে নতুন ভাবনা। ঝুঁকছে জৈবপ্রযুক্তির দিকে। আমরাও বিশ্ব মানচিত্রের অন্তর্গত। সে কারণেই আমাদেরও ভাবতে হচ্ছে। সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য দেশে প্রথমবারের মতো ময়মনসিংহের ত্রিশালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আইপিএম প্রকল্পের আওতায় মডেল প্রকল্প হিসেবে বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি চাষ শুরু হয়েছে। অবশ্যই সংবাদটি বাংলাদেশের জনসমষ্টির অস্তিত্বের প্রশ্নে একটি ইতিবাচক সংবাদ। কেননা ভেজালের স্বর্গরাজ্যে এ ধরনের সংবাদ আমাদের নান্দনিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখায়।

------
তথ্যমতে, প্রকল্পের অধীন দেশের ১০ উপজেলায় আইপিএম মডেল ইউনিয়ন গঠনের কাজ চলছে। ১০০ একর জমিতে জৈব কৃষিও জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে রবি মৌসুমের সবজি উৎপাদন এগিয়ে চলেছে। রাসায়নিক সারের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে পরিবেশবান্ধব ভার্মিকম্পোস্ট। ক্ষতিকর পোকা-মাকড় দমনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ফাঁদ, নেট হাউজ, জৈব বালাইনাশক। এখানে একটি কথা না বললেই নয় যে, আমরা অনেক ভালো কাজের সূচনা করেছি, কিন্তু শেষ করতে পারিনি। প্রথম দিকের উৎসাহ শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতেও ব্যর্থ হয়েছি। চলার পথে বাধা-বিপত্তিও কম নয়। তবে যেকোনো ভালো কাজের পেছনে ভালো মানুষের সমর্থন থাকে। এ ক্ষেত্রেও থাকবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

আমরা মনে করি, বিষযুক্ত খাবার যেন আমাদের খাদ্য তালিকার পুরোটাই দখলে নিয়েছে। যার ফলে প্রাণঘাতী রোগের মাত্রাসহ অসুস্থ হওয়ার মাত্রাও বেড়েছে অনেক। আর এভাবে চলতে থাকলে আগামীর কোনো একসময়ে গোটা জাতিই রোগগ্রস্ত একটি জাতিতে পরিণত হবে। আর সে কারণেই বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদনের দিকে নজর বাড়ানো এখন সময়ের দাবি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ত্রিশালে যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে তা দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়–ক- এটাই কাম্য এবং প্রত্যাশা।

 

"

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close