প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ৩০ জুলাই, ২০২১

তালেবান আতঙ্কে কান্দাহার ছাড়ছে মানুষ

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সেনা প্রত্যাহার ঘোষণা করার পর আটঘাট বেঁধে মাঠে নামে তালেবান। কয়েক মাসের মধ্যে আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকাগুলো দখলে নেয় তারা। এরপর ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে থাকে শহর দখলের জন্য। মার্কিন প্রশাসন সেনা প্রত্যাহার শুরু করার পরপরই আফগানিস্তানের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তুমুল লড়াই শুরু হয় তালেবানের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে। দুপক্ষের লড়াইয়ে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে দেশটিতে, যাদের বেশির ভাগই সাধারণ মানুষ। ভয় আর আতঙ্কে এ পর্যন্ত ভিটে ছাড়া হয়েছেন দেড় লাখের মতো মানুষ।

কান্দাহার শহর থেকে গত সপ্তাহে কাওসার সামা তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাজধানী কাবুলে চলে আসেন।

২১ বছর বয়সি কাওসার ও তার পরিবার মনে করছেন, আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কান্দাহার তাদের জন্যে মোটেও নিরাপদ নয়। কেননা সম্প্রতি দেশটির এই দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরের চারপাশ দখল করে নিয়েছে তালেবান। কান্দাহারের অধিবাসীরা আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, তারা ফাঁদে পড়ে গেছেন। তালেবানরা যেকোনো সময় শহরে ঢুকে পড়তে পারে, এমন ভয়ে সব সময় ভীত তারা। সামা বলেন, শিশুদের স্কুলে পাঠানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কান্দাহার শহরেই বেড়ে উঠেছেন ২৩ বছর বয়সি নাভিদ আমিনি। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সম্প্রতি এই প্রদেশে এমন কিছু ঘটছে যা আমি আগে কখনো দেখিনি। শহরের চারপাশে যুদ্ধ চলছে। কান্দাহারে তালেবানদের প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে কাওসার ও নাভিদের মতো সেখানকার অধিবাসীদের উদ্বেগও বাড়ছে। বুধবার কান্দাহারের বেশ কয়েকজন অধিবাসী আলজাজিরাকে জানান, প্রদেশের চারটি জেলায় যুদ্ধ চলছে।

কান্দাহারের আরেক বাসিন্দা দুর মোহাম্মদ বলেন, তার ভাগ্নে আহমাদুল্লাহ পুলিশে চাকরি করতেন। তাকে সপ্তাহখানেক আগে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। অপর বাসিন্দা নাসির আহমাদ জানিয়েছেন তার ভাই, ভাবি ও মা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তিনি মনে করেন, তালেবান যোদ্ধারাই তাদের গুলি করেছে। গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগান সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যারা কাজ করছেন তাদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে তালেবানরা এবং তাদের অনেককে হত্যা করা হচ্ছে। কান্দাহারের চারটি জেলায় যুদ্ধ চলছে আফগান বাহিনী ও তালেবানের। তারা বেশির ভাগ ভবন দখল করে যুদ্ধ চালাচ্ছে। সংঘর্ষের সময় বেছে নেওয়া হচ্ছে বাড়ির ছাদও। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গত সপ্তাহে এক প্রতিবেদনে অভিযোগ তোলে, তালেবানরা সরকারের পক্ষের লোকজনকে জড়ো করছে আর বেছে বেছে হত্যা করছে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে হত্যার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়ার পরপরই এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে তারা। যদিও তালেবান এটিকে প্রোপাগান্ডা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

স্পিন বোলদাখের জনপ্রিয় বাজার এলাকায় গত ১৬ জুলাই আফগান-তালিবান সংঘর্ষে নিহত হন তরুণ সাংবাদিক দানিশ সিদ্দিকি। এরপর সম্প্রতি জনপ্রিয় আফগান কৌতুক অভিনেতা নজর মহম্মদ ওরফে খাসা জওয়ানের মৃত্যুর ভয়াবহ চিত্র ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। যদিও তালেবানের দাবি, নজরের মৃত্যুতে তাদের কোনো হাত নেই। এ ঘটনার পর আতঙ্ক আরো বেড়ে যায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। শহর ছাড়তে শুরু করেন তারা।

সম্প্রতি জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উঠে আসে, ‘২০২১ সালের প্রথম ছয় মাসে বিস্ফোরক হামলায় ৫০১ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছন ১ হাজার ৪৫৭ জন।’ আফগান সরকারি বাহিনী ও তালেবানের মধ্যে সংঘর্ষের সময় গোলাগুলিতে সাধারণ মানুষ নিহত হওয়ার সংখ্যা আরো বেড়েছে। এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে রাজধানী কাবুলের চারপাশে শরণার্থী শিবির তৈরি করা হয়েছে। কান্দাহার ও অন্যান্য তালেবান অধ্যুষিত এলাকা ছেড়ে সাধারণ মানুষ এই সব শরণার্থী শিবিরেই আশ্রয় নিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত দেড় লাখের বেশি মানুষ ঠাঁই নিয়েছে এসব শিবিরে।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close