ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি
ধুনটে পানির স্রোতে দেবে গেছে সেতু

বগুড়ার ধুনট উপজেলার নিমগাছী-হেউটনগর সড়কের চরকাদহ খালের আরসিসি গার্ডার সেতু দেবে ও হেলে পড়েছে। গতকাল সোমবার সকালে পানির প্রবল স্রোতে সেতুটির নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। এতে ওই সড়কে স্থানীয় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
জানা যায়, ২০০৭ সালে নিমগাছী-হেউটনগর গ্রামীণ সড়কের চরকাদহ খালের উপর ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৯ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১২ মিটার প্রস্থ একটি আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হয়। সেতুটি নির্মাণের ফলে নিমগাছী ও কালেরপাড়া ইউনিয়নের মানুষের চলাচলে সেতুবন্ধন সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সেখানে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে খালের দুই তীরের কৃষকরা ফসল চাষ করেন। জমি থেকে তাদের ফসল ঘরে আনা এবং বাজারজাত করতে সেতুটি স্থানীয় কৃষকদের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিয়েছে। নির্মাণের পর থেকে দেড় দশকে গ্রামীণ এই সড়কের গুরুত্ব বেড়েছে, বৃদ্ধি পেয়েছে পথচারী ও যানবাহন চলাচল। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এ পথে চলাচল করেন।
স্থানীয়রা জানান, রবিবার বিকেল থেকে ধুনট উপজেলাজুড়ে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এতে ওই খালের ভাটি এলাকার দিকে পানির স্রোত নামে। পানির চাপে সেতুটির নিচে ও দুপাশে সড়কের সংযোগস্থলে মাটি ধসে যায়। এতে সোমবার সকাল ৮টার দিকে ওই সেতু দেবে এবং হেলে সড়কটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যার ফলে নিমগাছী-হেউটনগর সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল জলিল জানান, ‘ফসলের জমির জন্য তার মতো প্রতিদিন অসংখ্য কৃষক এ সেতু পারাপার হয়ে থাকেন। এছাড়া ওই পথে প্রতিদিন অসংখ্য গাড়ি চলাচল করে। সেতুটি দেবে সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তাদের এখন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে।’ ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানচালক নূর আলম বলেন ‘আমি গাড়িতে এ পথে যাত্রী আনা-নেওয়া করি। সেতুটি ভেঙেপড়ায় এখন দীর্ঘপথ ঘুরে চলতে হবে। সরকারের কাছে দাবি জানাই, দ্রুত গাড়ি চলাচলের একটা ব্যবস্থা করা হোক।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল্লাহ নিজামী ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী বখতিয়ার হোসেন ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় লোকজন ওই সড়কে চলাচলের জন্য দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা এবং স্থায়ীভাবে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রকৌশলী বখতিয়ার হোসেন বলেন, ভারী বর্ষণ ও পানির স্রোতে সেতুটির নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
"









































