খুলনা ব্যুরো

  ১৫ ঘণ্টা আগে

খুলনায় সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার, ২টি অস্ত্র উদ্ধার

খুলনার চিহ্নিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘বি কোম্পানি’র পাঁচ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলভার ও দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। গত রবিবার রাতে এবং গতকাল সোমবার সকালে ঢাকা ও খুলনার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ দিন কেএমপির গোয়েন্দা বিভাগের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া।

অভিযানে গ্রেপ্তাররা হচ্ছেন- নগরীর গোবরচাকা এলাকার এস. এম. আইয়ুব আলীর পুত্র মো. আবরার ফয়সাল ওরফে রাফিন (২৪), শেখপাড়া, লোহাপট্টির হাসিনার বাড়ির ভাড়াটিয়া মৃত নূর ইসলামের পুত্র মো. আল-আমিন (২৯), শেখপাড়া মেইন রোডস্থ বাদশা হাওলাদারের বাড়িসংলগ্ন মো. রুহুল আমিন শিকদারের পুত্র মো. তুষার শিকদার (৩৮), নবীনগর, খালাসি মাদরাসাসংলগ্ন গাউসুল আজমের পুত্র মো. আসিফ (২৫) এবং নগরীর টুটপাড়া জোড়াকল বাজারের ইসলামের বাড়ির ভাড়াটিয়া হাবিবুর রহমানের পুত্র মো. সাজ্জাদ হোসেন সাব্বির (১৮)।

ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া জানান, খুলনা মহানগরীতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী অপরাধী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কেএমপির উদ্যোগে গত ১ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন তথ্য, গোয়েন্দা নজরদারি এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আত্মগোপনে থাকা সন্ত্রাসীদের অবস্থান শনাক্ত করে রবিবার রাতে ঢাকার বংশাল এলাকা থেকে মো. আল-আমিন, মো. তুষার শিকদার, মো. আসিফ এবং মো. সাজ্জাদ হোসেন সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তিতে সোমবার সকালে খুলনা মহানগরীর গোবরচাকা এলাকার এস. এম. আইয়ুব আলীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে সন্ত্রাসী মো. আবরার ফয়সাল ওরফে রাফিনকে গ্রেপ্তার এবং একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলবার এবং ৭ দশমিক ৬৫ বোরের দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

ডিবির দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা খুলনার চিহ্নিত ‘বি কোম্পানি’সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে খুলনায় সক্রিয় অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, তাদের সহযোগী এবং অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিবি ডিসি মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘খুলনা মহানগরীতে কোনো অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি কিংবা চিহ্নিত অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়