মো. হাসান আলী, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ)
সাতছড়ি-রামগঙ্গায় পর্যটকের ঢল

পবিত্র ঈদুল আজহা ও এর পরবর্তী টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ সাতছড়ি জাতীয় উদযান এবং রামগঙ্গা চা-বাগান ও বিউটিফুল চুনারুঘাট এলাকায় হাজারো পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসেন এসব পর্যটনকেন্দ্রে। পাহাড়, আঁকাবাঁকা টিলা, গহীন বন আর বিস্তীর্ণ সবুজ চা-বাগানের মনোমুগ্ধকর পরিবেশ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বিশেষ করে সাতছড়ি জাতীয় উদযানের ওয়াচ টাওয়ার, প্রাকৃতিক বনভূমি এবং বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী দর্শনার্থীদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে ধরা দেয়।
ঢাকা, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পর্যটকরা জানান, ব্যস্ত শহুরে জীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য সাতছড়ি একটি আদর্শ স্থান। এখানকার নির্মল পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি তাদের ভ্রমণকে আরো আনন্দদায়ক করে তুলেছে। কিশোরগঞ্জ থেকে ঘুরতে আসা সৌদি আরব প্রবাসী আলমগীর হোসেন জানান, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে সঙ্গে করে এই প্রথম সাতছড়ি ও রামগঙ্গা বেড়াতে এসেছেন। এত দিন প্রবাসে বসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন, সরাসরি ঘুরতে এসে রামঙ্গায় খুবই অভিভূত হয়েছেন। ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন বিভাগ, সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসন বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। সাতছড়ি জাতীয় উদযানের বিভিন্ন স্থানে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এছাড়া অতিরিক্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং সার্বক্ষণিক টহলের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সাতছড়ি জাতীয় উদযানের পাশাপাশি রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য, গ্রিনল্যান্ড পার্ক এবং বিভিন্ন চা-বাগান ও ব্যক্তি মালিকানাধীন গড়ে ওঠা পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের উল্লেখযোগ্য ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পর্যটকদের এই উপচেপড়া উপস্থিতিতে স্থানীয় চা-স্টল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের আগমনে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। সাতছড়ি জাতীয় উদযানের রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, ঈদের পর থেকেই পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন বিভাগের পাশাপাশি সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি ও অতিরিক্ত স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার গালিব চৌধুরী বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং সাতছড়ি জাতীয় উদযান সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
"







































