reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ৫০ মিনিট আগে

কৃষিকে জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জরুরি: প্রধানমন্ত্রী

জলবায়ু সংকট সমগ্র মানবজাতির জন্য অন্যতম বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষিকে টেকসই, আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্ব পরিবেশ ও জলবায়ু দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।- বাসস

শুক্রবার (৫ জুন) বিশ্ব পরিবেশ ও জলবায়ু দিবস। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, তাপদাহ, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, খরা এবং জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয় বিশ্বজুড়ে পরিবেশ, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান অভিঘাত আজ বিশ্ববাসীর জন্য এক কঠিন বাস্তবতা। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) ঘোষিত এবারের প্রতিপাদ্য ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন’ বৈশ্বিক জলবায়ু উদ্যোগকে আরও বেগবান করার আহ্বান জানায়।

বাংলাদেশ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে খুবই সামান্য অবদান রাখলেও ভৌগোলিক অবস্থান, উচ্চ জনঘনত্ব এবং জলবায়ু-সংবেদনশীল অর্থনীতির কারণে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স-২০২৬ অনুযায়ী বাংলাদেশ উচ্চ জলবায়ু ঝুঁকিতে রয়েছে। লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন হ্রাস, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্রমবর্ধমান তীব্রতা দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ও জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমন্বিত ও দূরদর্শী নীতি কাঠামো অনুসরণ করছে। পাশাপাশি উপকূলীয় সুরক্ষা, সামাজিক বনায়ন, দুর্যোগ প্রস্তুতি, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন এবং প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, সবুজ শিল্পায়ন, পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে কার্বন ক্রেডিট ও বৈশ্বিক কার্বন বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

সমন্বিত উদ্যোগ, পরিবেশ সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে একটি সবুজ, নিরাপদ, বাসযোগ্য ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব—এটাই সরকারের দৃঢ় প্রত্যয় বলে প্রধানমন্ত্রী তার বিবৃতিতে পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়