রংপুর ব্যুরো
স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে পিটানোর অভিযোগে ওসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য ক্লোজ

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। গত ৩ জুন মধ্যরাতে থানার ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার ওই নেতার নাম রাকিবুল ইসলাম। তিনি সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব। তাঁর অভিযোগ, থানার ভেতরে ওসি আজাদ রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাঁকে মারধর করেন। পরে তাঁকে স্থানীয় বিএনপির নেতারা উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
এ ঘটনায় গত ৩ জুন রাত আড়াইটার দিকে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে রংপুর মহানগর পুলিশ। সেখানে বলা হয়েছে, বিএনপির এক নেতাকে থানায় আটক রেখে নির্যাতনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব থেকে ক্লোজ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে একই সঙ্গে এ ঘটনার তথ্য অনুসন্ধানে রংপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমাকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের আগে নগরের সিও বাজার এলাকার এক প্রেমিক যুগল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তাঁদের উদ্ধারের পর গতকাল সন্ধ্যায় কোতোয়ালি থানায় আনা হয়। ওই দুজনের পরিবারের অনুরোধে বিষয়টি মীমাংসা করতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা থানায় যান। লাভলু নামের এক নেতার ডাকে থানায় যান নেতা রাকিবুল ইসলামও।
রাকিবুল কাঁদতে কাঁদতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানে ওসি, এসআই আমাকে রাইফেল দিয়ে মারল। বারবার তাদের অনুরোধ করেছি, পরিচয় দিয়েছি যে আমি স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব, বিএনপির একজন কর্মী। তারপরও তারা আমাকে মেরে চোখটা কী রকম করল, মাথায় দুই জায়গায় মারছে। বন্দুক দিয়ে মারছে। আমার ফোন দুইটা কেড়ে নিছে। পুলিশের চরিত্র এখনো ফ্যাসিবাদীর মতো রয়েছে। আমি এর ন্যায্য বিচার চাই।’
রাকিবুল ইসলামের অভিযোগ,রাত সাড়ে নয়টার দিকে থানায় গিয়ে এক পুলিশ সদস্যকে ওই যুগলকে মারধর করতে দেখতে পান তিনি। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে ওসি ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাঁকে মারধর করেন। এতে তিনি রক্তাক্ত ও আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের ভাষ্য,ঘটনার খবর পেয়ে রংপুরের স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা থানার সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে থানার কলাপসিবল গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় গেটের ভেতর থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাকিবুল ইসলাম।
রাকিবুল অভিযোগ করেন,মারধরের পর পুলিশ সদস্যরা তাঁকে জোর করে নিয়ে গিয়ে শরীরে লেগে থাকা রক্ত ধুয়ে দেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ওসি আজাদ রহমান মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন। শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও কাপড়ে রক্তের দাগ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমি তখন উপস্থিত ছিলাম। যখন আমি ভেতরে ছিলাম, তখন দেখলাম বাইরে চিল্লাচিল্লি ও মারামারি করছেন। উনি (রাকিব) হয়তো ওপর পক্ষ দ্বারা মার খেয়েছেন। উনি হয়তো মনে করছেন, আমার ইন্ধনে হয়েছে।’
রংপুর মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্যাতনের ঘটনায় গতকাল রাতে দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা,ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা ও কনস্টেবল লিমা সরেনসহ পাঁচজনকে ক্লোজ করা হয়েছে।
তবে ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির নেতা–কর্মীরা। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জাকারিয়া ইসলাম বলেন, ‘ওসি আমাদের কর্মীকে নির্যাতন করেছেন। তাঁর যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয়। তাঁকে অপসারণ করা হয়,এটাই আমরা চাচ্ছি।’
এ বিষয়ে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার ঘটনায় কোতোয়ালি থানার ওসিসহ পাঁচজনকে ক্লোজ করা হয়েছে। থানার ওসির বিরুদ্ধে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। তদন্তে যাঁদের বিরুদ্ধ অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাঁদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।









































