চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

  ২৩ ঘণ্টা আগে

ভাঙ্গুড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকিট বাণিজ্য অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

* ৩ টাকার টিকিট ৫ টাকায় বিক্রির অভিযোগ * ১০ বছরে অতিরিক্ত প্রায় অর্ধকোটি টাকা আদায় * অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস কর্তৃপক্ষের

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বহির্বিভাগের ৩ টাকার টিকিট ৫ টাকায় বিক্রি করে গত এক দশকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে।

চলনবিল অধ্যুষিত কৃষিনির্ভর ভাঙ্গুড়া উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসা ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ১৯৯৫ সালে ৩০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করা হাসপাতালটি ২০১৭ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। তবে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার পর থেকেই টিকিট বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগ মিলিয়ে গড়ে প্রায় ৭০০ রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতি টিকিটে অতিরিক্ত ২ টাকা করে নেওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা অতিরিক্ত আদায় হচ্ছে। সে হিসাবে বছরে প্রায় ৫ লাখ টাকা এবং গত ১০ বছরে প্রায় অর্ধকোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্র ও সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, হাসপাতালের বহির্বিভাগে সরকারি নির্ধারিত টিকিটের মূল্য ৩ টাকা হলেও রোগীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৫ টাকা। দীর্ঘদিন ধরে এ প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে পরিচয় গোপন করে হাসপাতালের কাউন্টারে দায়িত্বরত রেজাউল করিমের (হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট) কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে ৫ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও পরে তা অস্বীকার করেন। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে তার স্বীকারোক্তির একটি ভিডিও ক্লিপ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা দিলপাশার ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, অনেক বছর ধরেই ৫ টাকা দিয়ে টিকিট কাটছি। সরকারি মূল্য ৩ টাকা, এটা আগে জানতাম না। যদি সত্যিই ৩ টাকা হয়, তাহলে অতিরিক্ত টাকা কেন নেওয়া হচ্ছে, তার জবাব কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে।

অষ্টমনিষা ইউনিয়নের গৃহিণী রেহানা বেগম বলেন, আমরা গরিব মানুষ। হাসপাতালে আসলে ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাতেই অনেক টাকা খরচ হয়। সেখানে টিকিটের জন্যও যদি বেশি টাকা দিতে হয়, তাহলে কষ্ট তো হবেই।

ভাঙ্গুড়া পৌর এলাকার রিকশাচালক জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারি হাসপাতালই ভরসা। সেখানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হলে সেটা অন্যায়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।

পৌর শহরের বাসিন্দা আবদুস সাত্তার বলেন, সরকারি হাসপাতালে গরিব মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে। সেখানে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হলে সেটা অবশ্যই অনিয়ম। তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, দুই টাকা হয়তো অনেকের কাছে সামান্য মনে হতে পারে। কিন্তু প্রতিদিন শত শত রোগীর কাছ থেকে নেওয়া হলে সেটি বড় অঙ্কের টাকায় পরিণত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এমনটি হচ্ছে, এর জবাবদিহি হওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয়দের দাবি, রোগীর কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আদায় করা অতিরিক্ত অর্থ কোথায় গেছে, কারা এর সুবিধাভোগী এবং কেন এত দিনেও অনিয়ম বন্ধ হয়নি, তা খতিয়ে দেখতে হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হালিমা খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে অব দ্য রেকর্ডে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। অন্যদিকে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) কৌশিক খান বলেন, টিকিট বিক্রিতে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে সেটি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়