নিজস্ব প্রতিবেদক

  ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

রূপপুরে আরেক কর্মযজ্ঞ

বিশ্বের এলিট পারমাণবিক ক্লাবের অভিযাত্রায় আরেক ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। সরকারের পরমাণু নীতি, জাতীয় অংশীদারদের অক্লান্ত শ্রম, দ্বিপক্ষীয় অংশীজনের সহযোগিতা এবং আইএইএর অকুণ্ঠ সমর্থনে বাংলাদেশ সফলভাবে পরমাণু কর্মসূচি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে চলছে। পাবনার রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এনপিপিতে নতুন দেশগুলোর জন্য বাংলাদেশ একটি দুর্দান্ত উদাহরণ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান গত সোমবার জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৬৫তম সম্মেলনে বলেছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির উন্নয়নে রূপপুর এনপিপির ইউনিট-১ এবং ইউনিট-২ নির্মাণকাজ করোনা মহামারি সত্ত্বেও কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে এগিয়ে চলেছে। ইউনিট-১ এ রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপন শুরু করেছে, যা বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত। সরকারের স্বচ্ছ ও সংক্ষিপ্ত পারমাণবিক নীতির মাধ্যমে, জাতীয় স্টেকহোল্ডার, দ্বিপক্ষীয় অংশীদার এবং আইএইএ-এর দৃঢ় সমর্থনে বাংলাদেশ সফলভাবে পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি ও সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা নিতে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে প্রকল্প কর্মকর্তা ও সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সঙ্গে সম্প্রতি বৈঠক করেছে একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় কমিটি।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির উপকমিটির আহ্বায়ক সাবের হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে রোববার দিনব্যাপী দলটি প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন এবং দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে প্রতিবন্ধকতা ও বিদ্যমান সংকট নিয়েও আলোচনা করেছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, রূপপুর প্রকল্পের রাশিয়ান বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে সংসদীয় কমিটির কাছে শিডিউল অনুযায়ী প্রকল্পের নির্মাণকাজের বিভিন্ন পর্যায়ের সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরেন। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ে শিডিউল অনুযায়ী এগোচ্ছে বলে প্রতিনিধিদল এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগকে জানিয়েছেন রাশিয়ান কর্মকর্তারা। নির্মাণকাজে কোনো বাধা নেই।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প পরিচালক শৌকত আকবর বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়ান নকশা, কারিগর ও আর্থিক সহায়তায় ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির দুটি রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হবে। চলতি মাসেই ইউনিট-১-এ চুল্লি স্থাপনের কাজ শুরু করতে আমরা কাজ করছি।

এদিকে প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় দক্ষ ও পরোক্ষ প্রায় ১৩ হাজার জনশক্তির প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে নির্মাণ কাজে প্রায় ২১ হাজার জনশক্তি নিয়োজিত রয়েছেন।

বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জ্বালানি পুনরায় লোডিং, রক্ষণাবেক্ষণ, ওভারহোলিং এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য রূপপুরের দুটি চুল্লির জন্য জনশক্তির প্রয়োজন হবে। (১২০০+১২০০) ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতাসম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করবে।

এছাড়াও বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরোক্ষভাবে আরো ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সারা দেশে দেড় মিলিয়নেরও বেশি পরিবারকে সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ শক্তি সরবরাহ করবে।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close