নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১

সনদ-নিবন্ধন নেই তবু চিকিৎসক!

ডাক্তারির সনদ বা নিবন্ধন কিছুই নেই। লেখাপড়া করেননি ডেন্টাল কলেজে তারপরও তিনি দাঁতের ডাক্তার। হাতেনাতে ধরা পড়েছিলেন র‌্যাবের হাতে, জেলও খেটেছেন ২৪ দিন। জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও নেমে পড়েছেন একই কাজে, তা-ও সেই আগের ঠিকানাতেই। তার ভুল চিকিৎসায় ক্ষতি হচ্ছে রোগীদের। অভিযোগ রয়েছে, এলাকার রাজনীতিবিদ আর পুলিশকে সঙ্গে করে দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছেন ভুয়া ডেন্টাল অ্যান্ড ওরাল সার্জন মো. সালাউদ্দিন মজুমদার। পরে আর চেষ্টা করেও কথা বলা যায়নি কথিত ডাক্তার সালাউদ্দিন মজুমদারের সঙ্গে। তবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট চাইলে তার সহযোগী জানান সেদিনও চেম্বারে বসার কথা রয়েছে তার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সনদ-নিবন্ধন ছাড়া চিকিৎসা দেওয়া শুধু বেআইনি নয়, শাস্তিযোগ্য অপরাধও।

গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ছবিতে দেখা যায় মুখে মাস্ক ছাড়াই চিকিৎসা দিচ্ছেন সালাউদ্দিন। তার বিরুদ্ধে এর চেয়ে বড় অভিযোগ তিনি পাস করা ডাক্তারই নন। অথচ প্রতিদিন তিনি শত শত রোগী দেখেন ডাক্তারের বেশে। ঢাকা ডেন্টাল। ঠিকানা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের শ্যামপুর থানার করিমউল্লাহবাগ। তার বাহারি এসব সব ডিগ্রি একটাও অর্জিত নয়। অথচ এসব দেখে সহজ-সরল মানুষ তার ফাঁদে পড়ছে প্রতিদিন। সাংবাদিক পরিচয় জানার পর ফোন কেটে দিয়েছেন।

বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির সভাপতি প্রফেসর আবুল কাসেম জানান, এমবিবিএস বা বিডিএস

পাস করা কোনো ডাক্তার যদি বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন না নিয়ে রোগী দেখেন তাহলে তারা দন্ডিত হবেন।

প্রতারণার অভিযোগে এর আগে র‌্যাব আটক করেছিল সালাউদ্দিন মজুমদারকে। সব জানার পরও পুলিশের নাকের ডগাতেই এখনো চেম্বারে বসছেন তিনি।

শ্যামপুর মডেল থানার ওসি মো. মফিজুল আলম বলেন, আমি তাকে নিষেধ করতে পারি। তাকে তো সিলগালা করতে পারি না। সেই এখতিয়ার আমার নাই। আমি বারবার ফোর্স পাঠিয়ে তাকে নিষেধ করছি। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

ডাক্তার রফিক আহমেদ, যিনি এখন জীবিত নন, সাইনবোর্ড, প্রচারণায় তার নামও ব্যবহার করছেন মো. সালাউদ্দিন মজুমদার। এলাকার প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার ও প্রভাবশালীদের সঙ্গেও প্রচারণামূলক ভিডিও বানিয়ে রোগী আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন সালাউদ্দিন মজুমদার।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close