প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মুনীরুজ্জামান আর নেই

সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, কলামিস্ট ও রাজনীতি-বিশ্লেষক খন্দকার মুনীরুজ্জামান আর নেই। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টা ২০ মিনিটে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি স্ত্রী ও এক ছেলে রেখে গেছেন। তারা দুজনেই চিকিৎসক।

মুনীরুজ্জামানের মৃত্যুর খবরে সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘মুনীর ভাই ছবি হয়ে গেলেন, সকাল ৭.৪০।’

------
খন্দকার মুনীরুজ্জামান নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ৩১ অক্টোবর মুগদা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। করোনা থেকে তিনি সেরেও উঠেছিলেন। কিন্তু করোনা-পরবর্তী নানা জটিলতায় তিনি মারা যান। তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে তাকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

খন্দকার মুনীরুজ্জামানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, মুনীরুজ্জামান ছিলেন নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ভীক সাংবাদিকতার পথিকৃৎ। তার মৃত্যু গণমাধ্যমের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

আলাদা বার্তায় শোক জানিয়েছেন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংবাদ সম্পাদক আলতামাশ কবির, এমসিসিআই সভাপতি ব্যরিস্টার নিহাদ কবির, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম এবং বিএফইউজে ও ডিইউজেসহ বিভিন্ন সংগঠন নেতারা।

বিবৃতিতে নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘মুনীরুজ্জামান আমার রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ছিলেন। তিনি ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সৈনিক এবং নিষ্ঠাবান সাংবাদিক।’

তথ্যমন্ত্রী শোকবার্তায় বলেন, গণমাধ্যম জগতে সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক খন্দকার মুনীরুজ্জামানের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

খন্দকার মুনীরুজ্জামানের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১২ মার্চ ঢাকায়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময় সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। একই সময়ে তিনি বাম ধারার রাজনীতিতে দীক্ষা নেন। দীর্ঘদিন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ঢাকা মহানগর কমিটির সম্পাদক ছিলেন।

১৯৭০ সালে সিপিবির মুখপত্র সাপ্তাহিক একতায় মুনীরুজ্জামানের সাংবাদিকতার শুরু। পরে রাজনৈতিক বিশ্লেষণধর্মী কলাম লেখক হিসেবে তিনি পরিচিতি পান। সাংবাদিক হিসেবে তিনি বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করেছেন। সংবাদে তিনি সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। পরে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হন। ২০১৯ সালে তিনি প্রেস কাউন্সিলের সদস্য মনোনীত হন।

খন্দকার মুনীরুজ্জামান সাংবাদিকতা ছাড়াও কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, চিত্র সমালোচনা এবং নিয়মিত কলাম লিখতেন।

 

 

"

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়