রেজাউল করিম শামীম

  ০৪ মে, ২০২৬

মায়াবী জ্যোৎস্নার গল্প...

কিছু কিছু ব্যক্তি থাকেন, যারা পিএইচডি বা মাস্টার্সসহ বড় বড় ডিগ্রিধারীনন। অথচ শিক্ষকতা করার যোগ্যতার ডিগ্রি নিয়েও জ্ঞানভিত্তিক পাহাড়সম ভান্ডার ধারণ করেন। শুধু ধারই বা অর্জনই নয়। কথায়, আলোচনায়, বক্তৃতায়, লেখার মধ্যদিয়ে নিজেকে মেলে ধরা। অন্যের কাছে অনুকরণীয় হয়ে উঠা। তেমনি জ্ঞানগর্ভ মানুষের সংখ্যা সমাজে কমই হয়ে থাকে।

তবে আমাদের দুলালভাই, সকলের সুপরিচিত জহিরুল হক দুলাল তেমনিই একজন ব্যক্তিত্ব। একথা কে-না স্বীকার করবে। সুদীর্ঘকাল ধরে কুমিল্লার সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক বা শিক্ষাঙ্গনের উজ্জ্বল বিচরণের মধ্যে দিয়ে দুলালভাই তারই স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) কুমিল্লা ক্লাবের মিলেনায়তনে ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ‘আমরা জ্যোৎস্নার প্রতিবেশী’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুলাভাইকে ঘিরে নানাধরনের, নানামাধ্যমে, নানাজনের কথামালায় উঠে আসে তার সেই সেইসব বহুমাত্রিক গুণাবলির কথামালা।

একপর্যায়ে আমিও দুলালভাইকে নিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্ত, আমার আজকের অবস্থানে আসার সূচনা থেকেই নানাভাবে উনার জড়িয়ে থাকার কথা, শেষমেশ আর বিস্তারিত বলা হয়নি। বেশিমাত্রায় আবেগতাড়িত হয়ে পড়ার কারণে সেই অপারগতা। আমি দুলালভাইকে ‘জ্যোৎস্নার ফেড়িওয়ালা’ বলেই অভিহিত করেছি। এই শিরোনামে আমার একটা লেখাও ফেজবুকে এবং পত্রিকায় ছাপাও হয়েছিল।

সেদিনের অনুষ্ঠানটি ছিল, সংগঠনের ৫৫ বছরপূর্তীর পুনর্মিলনী। “মায়াবী জ্যোৎস্নার গল্প” শিরোনামের মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা দুলাল ভাই। আর শুরুতেই তিনি সূচনা বক্তব্যে ৫৫ বছর আগে সংগঠনের সূচনাসহ বিভিন্ন তৎপরতা তুলে ধরেন। তবে ঢাকা ফিরে আসার তাড়া থাকায়, উনার সমাপনী কথাগুলো শোনা হয়নি। গোটা অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা আর অভিজ্ঞতার আবীর ছড়ানো সুরেলা কণ্ঠে উপস্থাপনায় ছিলেন প্রফেসর ড. আলী হোসেন চৌধুরী। শুরুতেই দুলাল ভাইকে বিভিন্নজন ক্রেষ্টসহ বিভিন্ন উপহার প্রদানের মাধ্যমে সম্মাননা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ, স্বরচিত কবিতা, আবৃত্তিতে অনেকেই অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম প্রফেসর শান্তি রঞ্জন ভৌমিক, প্রফেসর ড. আনোয়ারুল হক, শওকত আহসান ফারুক, হাসান ইমাম ফটিক, আহাম্মদ সোয়েব সোহেল, ডা. মোসলেহ উদ্দিন, আলাউদ্দিন তালুকদার, ফখরুল ইসলাম রচি, শাহজাহান চৌধুরী, ফরিদ মাজাহার, সুলতানা পারভিন দীপালী, জেসমিন মনি, রবিউল, হালীম আবদুল্লাহসহ অনেকে। তবে দীর্ঘদিন প্রায় গৃহবন্দি কুমিল্লার পরিচিত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আমার বল্যবন্ধু সৈয়দ আহমাদ তারেকের স্কেচে ভরদিয়ে উপস্থিতি, কবিতা আবৃত্তি এবং অপর আর একজন পরিচিতমুখ ডাক্তার আনোয়ার ইকবালের সংঙ্গীত পরিবেশন মনে রাখার মতো।

অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ড. আলী হোসেন চৌধুরীর সম্পাদনায় চমৎকার একটি স্যুভেনীর প্রকাশিত হয়। যা সমগঠনটির বৈশিষ্ট্য বৈচিত্র্যেপূর্ণ প্রকাশনার ঐতিহ্যের ধারক হয়ে থাকবে।

আমার ঘনিষ্ঠজন টিটু ভূঁইয়া, খাদি ভবনের সানাইসহ আরো অনেকের কষ্ট ও যত্নসাধ্য আয়োজন, সার্বক্ষণিক সঙ্গদান আমাকে ঋণী করেছে। পরিশেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কানায় কানায় পূর্ণ মিলনায়তনের দর্শক-শ্রোতাদের আনন্দ দিতে পেরেছে।

সবমিলিয়েই অনেকদিন পর আমার প্রিয় সংগঠনের অনুষ্ঠান, দুলাল ভাইয়ের সান্নিধ্যসহ অনেকের সঙ্গে দেখা-কথাবলা সবকিছুই বিশুদ্ধ বায়ুসেবনের মতোই আমাকে, আমার সাথে থাকা পরিবারের সদস্যদের পরিপুষ্ট করেছে। ঋদ্ধ করেছে। আবার কবে সবার সাথে মিলিত হতে পারবো জানিনা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়