প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২

রাজা তৃতীয় চার্লসের ধন্যবাদ

রানির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় সোমবার যোগ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে ব্রিটেনের প্রয়াত রানি এলিজাবেথের রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিচ্ছেন। এই উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ব্রিটেনের নতুন রাজা চার্লস তৃতীয়।

শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় বাকিংহাম প্যালেস থেকে টেলিফোন করে যুক্তরাজ্য সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন রাজা চার্লস। তার মায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

টেলিফোনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমার কাছে প্রয়াত রানি মায়ের মতো ছিলেন। তিনি কমনওয়েলথের একজন অসাধারণ প্রধান ছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে ওনার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আমি তার রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী রাজাকে আরো জানান, বাংলাদেশ প্রয়াত রানির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করেছে এবং তার আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়েছে। তিনি রাজা চার্লসকে তার সিংহাসনে আরোহণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং তার দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ রাজত্ব কামনা করেন।

এর আগে ব্রিটেনের বিরোধী দলের নেতা ও লেবার পার্টির প্রধান স্যার কেয়ার স্টারমার তার সঙ্গে সাক্ষাতকালে শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য বোঝা। তাছাড়া বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে মিয়ানমারের সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে পড়া সত্ত্বেও সর্বোচ্চ সংযম অনুশীলন করছি।

এসময় স্যার স্টারমার বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য চমৎকার সম্পর্কে আবদ্ধ এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিকদের দ্বারা এই সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হয়েছে।

স্যার স্টারমার রানির স্মরণে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তারা ব্রিটেনের লেবার পার্টির সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার হ্যারল্ড উইলসনের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাক্ষাৎ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে দেওয়া বাণীর জন্য প্রধানমন্ত্রী লেবার পার্টি নেতাকে ধন্যবাদ জানান।

স্যার স্ট্রারমার ২০১৬ সালে তার বাংলাদেশ সফর এবং সে সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন। তিনি যুক্তরাজ্য জুড়ে লেবার পার্টি থেকে ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লোক প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, লেবার পার্টি তরুণ প্রজন্মের নেতাদের সহায়তা ও উৎসাহ-উদ্দীপনা দানে কাজ করছে, যা আরো ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তরুণদের আকৃষ্ট করবে। দুই নেতা ইউক্রেনের যুদ্ধের প্রভাব বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের ওপর আলোচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাপী সাধারণ মানুষকে খাদ্য, জ্বালানি ও আর্থিক নিরাপত্তাহীনতা থেকে রক্ষা করতে আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জনগণের ওপর ভিন্ন রকম প্রভাব ফেলছে কিনা, তা পর্যালোচনার পরামর্শ দেন।

লেবার পার্টির নেতা বলেন, তারা যুক্তরাজ্য ও পশ্চিমের বড় খুচরা বিক্রেতাদের জন্য তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে ব্যয় ভাগ করে নেওয়ার পক্ষে সমর্থন অব্যাহত রাখবে। স্যার স্টারমার প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলার প্রশংসা করেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশের সঙ্গে কাজ করার জন্য লেবার পার্টির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে জলবায়ু অংশীদারিত্বের প্রসারের প্রশংসা করেন।

সূত্র : বাসস।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
রানির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া,যোগ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী,রাজা তৃতীয় চার্লস
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close