বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাঙালির সম্ভাবনা হারিয়ে যায়...

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২০, ০৮:২০ | আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২০, ১৩:০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

রক্তঝরা আগস্ট মাস চলছে। এই মাস কান্নার মাস। বেদনার মাস। শোকাবহ আগস্টে জাতি হারিয়েছে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের প্ররোচণায় একদল সেনাকর্মকর্তা সেদিন নৃশংসভাবে হত্যা করে তাকে। আসলে নৃশংস এই হত্যাকান্ডের পর বাংলাদেশের জনগণ সব সম্ভাবনা হারিয়ে ফেলেছিল। সেদিন শুধু জাতির পিতাকেই নয়, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে ঘাতকরা হত্যা করে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশু শেখ রাসেলসহ দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল এবং পরিবারের আরো অনেক সদস্যকে।

জাতির জনকের যোগ্য উত্তরসূরি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত রোববার কৃষক লীগের এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, নৃশংস এই হত্যাকান্ডের পর বাংলাদেশের জনগণ সব সম্ভাবনা হারিয়ে ফেলেছিল।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতা উপহার দেন। কিন্তু যারা এই স্বাধীনতা চায়নি ও এতে বিশ্বাসও করে না এবং যারা দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে স্বাধীনতার জন্যে কোনো সহায়তাই করেনি তারাই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্য আর ঘৃণ্যতম ওই হত্যাকান্ডের কলঙ্ক কয়েক যুগ ধরে বয়ে চলছে জাতি। যে কলঙ্করেখা কোনো দিনও জাতির ললাট থেকে মুছে ফেলা সম্ভব না। সেদিন ঘাতকচক্র শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, হত্যার চেষ্টা করেছে বাঙালির চেতনাকে।

এজন্যই আমরা দেখেছি, পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক, প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল চার নীতিকে (গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ ও সমাজতন্ত্র) গলা টিপে হত্যা করেছে। সেই গোষ্ঠী দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় পরিচালিত করেছে। যে কারণে আজও স্বাধীনতার মূল চেতনা বাস্তবায়িত হয়নি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার আসল উদ্দেশ্যই ছিল এটাই। কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হয়নি।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সেই ঘটনার বিচার যাতে না হয় সেজন্য সাংবিধানিক বাধা তৈরি করেছিল বিএনপি ও তাদের রাজনৈতিক দোসররা। তাই ২১ বছরের বেশি সময় নৃশংস সেই হত্যাকান্ডের বিচার পায়নি জাতি। তবে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী ক্ষমতায় আসার পর সরকার সেই বাধা দূর করে খুনিদের বিচার করে। কয়েকজন খুনির ফাঁসি রায় কার্যকর করে কিছুটা হলেও জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছে। কিন্তু এখনো পাঁচজন আত্মস্বীকৃত বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছে।

আমরা মনে করি, ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যায় সফল হলেও কুচক্রীরা তার স্বপ্ন, চেতনাকে শেষ করতে পারেনি। তাকে কোনোভাবেই মুছে ফেলা যাবে না।

এবার আগস্ট এসেছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে। বিশ্বব্যাপী করোনা নামক মরণঘাতী ভাইরাসের ছোবলে পর্যুদস্ত দেশ। অন্যদিকে বন্যায় ডুবে আছে দেশের একটি বড় অংশ। এই সময়ে মানবিকতার জাগরণ অত্যন্ত জরুরি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে জনকল্যাণই ছিল মুখ্য বিষয়। তাকে হত্যার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে যে বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। শোকাবহ আগস্টে নতুন করে শপথ নিতে হবে যাতে জনকল্যাণই মুখ্য বিষয় হয় রাজনীতির।

পিডিএসও/হেলাল