অনলাইন ডেস্ক
  ১২ জানুয়ারি, ২০২১

চাল মজুদে আগাম সতর্কতা জরুরি

আমাদের প্রধান খাদ্য ভাত। এটি আসে চালের মাধ্যমে। খাদ্যতালিকায় দেশে চালের অবস্থান শীর্ষে। খাদ্যতালিকার শীর্ষে থাকায় চালের দাম ওঠানামার সঙ্গে নির্ভর করে মূল্যবৃদ্ধি হয় দেশের অন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর। এ ক্ষেত্রে বলা যায়, খাদ্যতালিকার কেন্দ্রবিন্দুতে চালের অবস্থান। তাকে ঘিরেই অন্যান্য পণ্যের অবস্থান। এ যেন সূর্যকে ঘিরে অন্যান্য গ্রহ-উপগ্রহের অবস্থান। সূর্যের অবস্থানে কোনো সংকট দেখা গেলে তার প্রভাব যেমন গ্রহ-উপগ্রহের ওপর পড়বেই, ঠিক একইভাবে চালের ক্ষেত্রেও তাই। তাই দেশকে সরল ও স্বাভাবিক রাখতে চালের সরবরাহ নিশ্চিত হওয়াটা খুবই জরুরি। এখানে ঘাটতি হলে দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ও সংস্কৃতিতেও তার ছাপ পড়ে। সমাজ হয়ে উঠে অসহিষ্ণু ও অস্থির।

পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে বলা হচ্ছে, দেশে চালের মজুদ সন্তোষজনক নয়। ঘাটতির সম্ভাবনা প্রবল। চলতি মৌসুমে দুই মাস আগে শুরু হলেও এখন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৩ দশমিক ৭ শতাংশ আমন ধান ও চাল সংগ্রহ করতে পেরেছে সরকার। লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৮ লাখ টনের হলেও গত ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ২৯ হাজার ৫৬১ টন চালের সমপরিমাণ ধান-চাল সংগৃহীত হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে চাল সংগ্রহের চুক্তি হয়েছে মাত্র দেড় লাখ টনের। এদিকে চলতি বোরো মৌসুমেও ধান-চাল সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার অনেক কম হয়েছিল। টানা দুই মৌসুমে সংগ্রহ কার্যক্রম সফলতা আনতে না পারায় দিনে দিনে ফাঁকা হয়ে পড়ছে সরকারের খাদ্যগুদাম। এদিকে সরকারের কাছে পর্যাপ্ত চাল না থাকায় বাজারের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ এখন চালকল মালিকদের হাতে। মোটা চালের কেজিও খুচরা বাজারে ৫০-৫২ টাকা। সরকারে কাছে আমদানিই এখন একমাত্র ভরসা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

1তথ্যমতে, এরই মধ্যে সরকারি পর্যায়ে সাড়ে চার লাখ টন এবং বেসরকারি পর্যায়ে ৩ লাখ ৩০ হাজার টন চাল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চাল আমদানিতে শুল্কও ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তর বলছে, তারা এখন বোরো নিয়ে কথা বলতে চান না। এ ক্ষেত্রে বলতে হয়, ব্যর্থতার লজ্জা ঢাকার যখন কিছুই থাকে না, তখন সেই লজ্জা ঢাকতে কিছু না বলাই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে এখন পর্যন্ত আমন সংগ্রহেও তারা সফল নন। তবু অনুগ্রহ দেখিয়ে কিছু বলেছেন। তারা বলেছেন, এখন তারা আমন নিয়ে ভাবছেন। এ ভাবনা কবে শেষ হবে, তা আমাদের জানা নেই। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চাল সংগ্রহের অভিযান চলবে। বলেছেন, চালের দাম কমলে হয়তো আরো কিছু চাল কেনার ব্যাপারে তারা চুক্তিবদ্ধ হতে পারবেন। তথ্যমতে, খাদ্য অধিদপ্তর এরই মধ্যে যে দেড় লাখ টন চাল সংগ্রহের চুক্তি করেছে, তাও মাঝপথে আটকে যেতে পারে। সেখানে নতুন চুক্তির অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, এ মুহূর্তে তা বলাটাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে, সরকারের মজুদ কমা ও বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পর অবশেষে চাল আমদানিতে মনোযোগী হয়েছে সরকার। কমানো হয়েছে শুল্ক। ভারত থেকে সরকার টু সরকার (জিটুজি) প্রক্রিয়ায় দেড় লাখ টন ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে আরো তিন লাখ টন চাল আমদানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে খোলাবাজারে চালের দাম কমবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিজ্ঞ মহল বলছে, যাদের জন্য বাজারে এমন অস্থিরতা তারাই আবার আমদানির অনুমতি পাচ্ছে। এ যেন ভক্ষককেই রক্ষকের ছাড়পত্র দেওয়া। সরকারের উচিত বাজারের স্বার্থে সবার জন্য চাল আমদানির পথ উন্মুক্ত করা। বিষয়টি সরকার ভেবে দেখবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

পিডিএসও/ জিজাক

চাল মজুদ,চাল
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়