জয়তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:১৩ | আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:২২

সম্পাদকীয়

বাংলাদেশের নতুন ইতিহাসের স্রষ্টা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন আজ। ১৯৪৭ সালের এই দিনে মধুমতিবিধৌত গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। আর এই নিভৃত পল্লীতেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। গ্রামের সঙ্গে তাই তার সম্পর্ক নিবিড়। সেই নিবিড়তায় জাতির মুখপাত্র হিসেবে নন্দিত এই মহান নেতা শুধু বাংলাদেশই নয়, বিশ্ব মানবতার জননী হিসেবেও স্বীকৃত। শান্তির প্রতীক বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার আজকের জন্মদিনটি এমন একসময়ে পালিত হচ্ছে, যখন করোনার ভয়াবহ থাবায় বিশ্বব্যবস্থায় এসেছে ব্যাপক নেতিবাচক পরিবর্তন; যা থেকে বাংলাদেশও মুক্ত নয়। কিন্তু শেখ হাসিনার সাহসী ও সাবলীল নেতৃত্বে সেই সমস্যা কাটিয়ে অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনার জন্মদিনে জানাচ্ছি আমাদের প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

একসময় দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষে জর্জরিত যে বাংলাদেশকে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম করতে হয়েছে। শেখ হাসিনার কল্যাণমুখী নেতৃত্বে সেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বজয়ের নবতর অভিযাত্রায় এগিয়ে চলেছে। ১৯৭৫ সালে ছোট বোন শেখ রেহানাসহ শেখ হাসিনা ইউরোপে অবস্থানকালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার খবর পান। কিন্তু দেশে ফেরার পরিবেশ না থাকায় স্বামী-সন্তানসহ ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। ১৯৮১ সালের ১৩-১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ওই বছরের ১৭ মে প্রবাসজীবনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফিরে আসেন। ১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি তিনটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক গণ-আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে সরকার গঠন করে এবং সে বছরের ২৩ জুন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে বিশাল বিজয় পায়। এরমধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তৃতীয় মেয়াদে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাঙালি জাতিকে নতুন এক আশা দেখিয়েছেন। বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার এই আশার নাম রূপকল্প-২০২১। তিনি সব জাতিকে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছেন, যেখানে সর্বাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তি থাকবে। স্বাধীনতার চার দশক পরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন। বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার, ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি, একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতিসহ জাতীয় জীবনের বহু ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি এবং সমুদ্রবক্ষে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ব্লু-ইকোনমির নতুন দিগন্ত উন্মোচন। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সফল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে মহাকাশ জয়। ফোরজি মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার চালুসহ অসংখ্য ক্ষেত্রে কালোত্তীর্ণ সাফল্য এনে দিয়েছেন। এ ছাড়া মিয়ানমার সরকারের ভয়াবহ নির্যাতনে আশ্রয়হীন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে বিশ্ব মহলের মনোযোগ কেড়েছেন।

এক বর্ণাঢ্য সংগ্রামমুখর জীবন জননেত্রী শেখ হাসিনার। মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস তিনি গৃহবন্দি থেকেছেন। সামরিক স্বৈরশাসনামলেও বেশ কয়েকবার তাকে কারানির্যাতন ভোগ ও গৃহবন্দি থাকতে হয়েছে। বারবার তার জীবনের ওপর ঝুঁকি এসেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও তিনি অসীম সাহসে তার লক্ষ্য অর্জনে থেকেছেন অবিচল। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ, তার স্বপ্নকে পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুনিপুণ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাক স্বমহিমায়। তার উজ্জ্বলতা নিয়ে আমরা আশাবাদী। জয়তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পিডিএসও/হেলাল