ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

  ০৩ অক্টোবর, ২০২১

অথের্র অভাবে চিকিৎসা বন্ধ মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনির

একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা উসমান গনি (৭২)। ১৯৭১ সালে যিনি বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে জীবন বাজি রেখে অসীম সাহসিকতার সাথে দেশমাতৃকার টানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। আজ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি অথের্র অভাবে নিজের চোখের চিকিৎসা করাতে পারছেন না।

জানা যায়, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের নতুন হাট বাজারের পাশেই বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনির বাড়ি। তার মুক্তিযোদ্ধা সন্মানী ভাতার বই নং-১৮ ক্রমিক নং- ৪০৫৬১ এফ এফ নং- ১০১/৩৩ লাল মুক্তিবার্তা নং-৩১৬০৪০৫০৭, জাতীয় তালিকা নং-৪৬৩। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় ৬নং সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেছেন।

উসমান গনি প্রায় ছয় বছর ধরে দুচোখের দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন। এছাড়াও তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত। তার ভিটেবাড়ি ছাড়া নেই কোন জমি জমা। সংসার চালানোর একমাত্র আয়ের উৎস মুক্তিযোদ্ধার ভাতার টাকা। তার বাড়িতে বসবাস করার ঘরটিও জরাজীর্ণ। এই জরাজীর্ণ ঘরে জীবনে শেষ প্রান্তে এসে প্রায় চিকিৎসাহীন অবস্হায় এখন মৃত্যুর সাথে লড়াই করছেন। বয়সের ভারে তিনি চলাফেরা করছেন হুইল চেয়ারে। শুধু তাই নয় তার স্ত্রী হামিদা বেগমের (৬০) এক চোখ অন্ধ অন্য চোখটিও দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলার উপক্রম হয়েছে। তিন ছেলে দিন মজুর। তালাকপ্রাপ্ত এক মেয়েসহ তার পরিবারটি এখন অসহায়। সম্মানী ভাতার টাকা দিয়ে ওষুধ কিনে খাওয়া আর সংসার চালানো তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই সাহায্যের আশায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা চেয়ে  ১৮/১১/২০১৯ তারিখে প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আবেদন করেছেন। কিন্তু কোন সাড়া মেলেনি।

অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা উসমান গনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে এখন বিছানায় পড়ে আছি। যে পতাকার জন্য নয় মাস যুদ্ধ করেছি সেই লাল সবুজের উড়ন্ত পতাকা দেখতে না পেরে নিজেকে খুব হতভাগ্য মনে হচ্ছে।

চর-ভূরুঙ্গামারী ইউপি চেয়ারম্যান ,টি,এম ফজলুল হক বলেন, আমার পক্ষ থেকে সামান্য কিছু সাহায্য করেছি। বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনির যে অবস্থা তাতে বড় ধরনের আর্থিক সাহায্য ছাড়া তার চিকিৎসা সম্ভব নয়।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, তিনি দীর্ঘদিন থেকে অসুস্হ্য বিষয়ে আমি অবগত আছি।

তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রশাসনসহ সকলকে পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিনীত আহবান জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার দেব শর্মা বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
মুক্তিযোদ্ধা,অথের্র অভাব,চিকিৎসা বন্ধ
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close