পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা
ভারতে হিন্দুদের জন্য সংখ্যালঘু সুবিধা কোর্টে খারিজ

ভারতে ৮ রাজ্যের হিন্দুদের জন্য সংখ্যালঘুদের সুবিধা চাওয়ার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ধর্মের কোনো সীমানা নেই, প্যান ইন্ডিয়া প্রসঙ্গটি খতিয়ে দেখে এমন কথাই বলেছে শীর্ষ আদালত। ভারতের প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদের নেতৃত্বাধীন শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ জানিয়েছে যে, এই মামলায় কোনো নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয়।
মামলার অন্যতম আবেদনকারী অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায়কে স্মরণ করিয়ে দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ জানিয়েছে যে, কোনো দল বা সম্প্রদায়কে সংখ্যালঘু হিসেবে ঘোষণা করা হবে কি হবে না সেটা ঠিক করা সরকারের কাজ, আদালতের নয়। এলাকা ভিত্তিতে ভাষা ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, তবে ধর্মের কোনো নির্দিষ্ট সীমানা থাকতে পারে না। এ ক্ষেত্রে প্যান-ইন্ডিয়ার পদ্ধতিই অবলম্বন করতে হবে। লাক্ষাদ্বীপে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা হিন্দু আইন অনুসরণ করেন, জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
আদালত আরো বলেছে যে, আবেদনকারীর সঙ্গে একমত নন, এ বিষয়ে কী করে কোনো নির্দেশিকা পাস করতে পারা যাবে, কারণ আদালত কাউকে সংখ্যালঘু হিসেবে ঘোষণা করে না, এটা সরকারের কাজ। এই আবেদনে কেন্দ্রের ২৬ বছর পুরনো বিজ্ঞপ্তির বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়, ওই বিজ্ঞপ্তিতে ছিল যে পার্সী, জৈন, খ্রিস্টান, শিখ এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এই পাঁচটি সম্প্রদায়কে সংখ্যালঘু তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট এর আগে ৮টি রাজ্যের হিন্দুদের সংখ্যালঘু জনসংখ্যা হিসাবে ঘোষণা করা নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে ভেনুগোপালের সঙ্গেও পরামর্শ করেছে ।
অন্যদিকে, জামিয়া মিলিয়ায় বিক্ষোভকারী ছাত্রদের ওপর পুলিশি অভিযানে হিংস্রভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে ভারত সরকারকে খোলা চিঠি দিয়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক ছাত্রছাত্রী। জামিয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে ওই চিঠিতে। জামিয়ার ছাত্রছাত্রীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিবাদ গণতন্ত্রের সহজাত। বিক্ষোভকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে তার মধ্যেই তারা ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক দেশের কথা তুলে ধরেছেন।
ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের উপর হিংস্রভাবে চাপ সৃষ্টি করেছে পুলিশ, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের ব্যবহার করা হয়েছে, শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশ বাহিনী যেভাবে জোর করে ক্যাম্পাসে ঢুকেছে ও ইন্টারনেট ব্লক করে দিয়েছে, তা নিন্দনীয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের স্পিরিটকে ঠেকাতে পুলিশি নৃশংসতার যে খবর পাওয়া যাচ্ছে তাতে তারা হতবাক ও উদ্বিগ্ন। মহিলা বিক্ষোভকারীদের ওপরও নিগ্রহের খবর এসেছে।
পিডিএসও/তাজ









































