মোশারফ হোসাইন

  ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১

সাংবাদিকতা পেশা আর মানবসেবা নেশা মনিরের

মানবসেবাকে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেন, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে মানুষ মানুষের জন্য প্রমাণ দিয়েছেন অনেকেই। শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা ঝিনাইগাতীর জাহিদুল হক মনির তেমনি একজন মানবসেবী। এই তরুণ পেশায় সাংবাদিক হলেও নেশার জায়গা থেকে কাজ করেন মানুষের জন্য। পাহাড়ি জনপদের মানুষের দুঃখদুর্দশার কথা জানতে পারলে ছুটে চলেন, নিজের সাধ্যের মধ্যে হলে নিজেই সহযোগিতা করেন আর সাধ্যের বাইরে গেলে দারস্থ হোন উপজেলা প্রশাসনের।

জাহিদুল হক মনিরের বেড়ে ওঠা ঝিনাইগাতীতে। এসএসসি এইচএসসি শেষ করেন এখান থেকেই, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স শেষ করলেও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে সন্ধ্যাকালীন মাস্টার্স করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকায় জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন এই তরুণ।

মনির বলেন, সাংবাদিকতা করতে গিয়ে অনেক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়, আমি যেহেতু  মানুষ, আমারও কষ্ট লাগে। করোনার লকডাউনের সময় কর্মহীন মানুষ যখন দু'মুঠো খাবারের জন্য দিকবিদিক ছুটছিল তখনই আমার মাথায় চিন্তা আসে তাদের জন্য কিছু করার। আমি যেহেতু সাংবাদিক, ব্যক্তি হিসেবে কিছু করতে গেলে অনেক মানুষই অনেক কথা বলতে পারে, চিন্তাভাবনা করে কয়েকজন ছোট ভাইদের নিয়ে 'ভয়েস অব ঝিনাইগাতী' নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ভিত্তিক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন চালু করি।

তিনি বলেন, পরিচিত কয়েকজন প্রবাসী ভাই জার্মানির একটি ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানির ফার্মা বিভাগের রিচার্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক এবং প্রধান গবেষক . জাফর ইকবাল ভাইকে জানাই এলাকায় মানুষের খাদ্য সংকটের কথা। এরপর তারা অর্থ পাঠালে সেই অর্থে করোনার প্রথমদফা দ্বিতীয় দফায় সর্বমোট ১৫ শ’ দরিদ্র কর্মহীন পরিবারকে দিনের খাদ্য সহায়তা দেই। আমার এই কাজে খুশি হয়ে আশেপাশে অনেক মানুষই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

এরপর ভয়েস অব ঝিনাইগাতীর পক্ষ থেকে ২৫জন দরিদ্র শিক্ষার্থীকে শিক্ষা উপকরণ দেই। পাহাড়ি এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সমস্যা বহুকাল থেকেই সেই সমস্যা নিরসনে ৫টি নলকূপ স্থাপন করে দিয়েছি। শীতে দরিদ্র মানুষ বৃদ্ধাদের মাঝে ৫০০ কম্বল বিতরণ করেছি। ঈদুল ফেতরে ৩০০ পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দিয়েছি এবং সবশেষ এই ঈদুল আযহায় শতাধিক এতিম দরিদ্র শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে পোষাক দিয়েছি, প্রতিবন্ধীদের হুইল চেয়ার উপহার দিয়েছি। এসব সম্ভব হয়েছে বিদেশ থেকে আসা অর্থের কারণে, আবার কখনো আমার নিজের অর্থ দিয়েও মানুষের পাশে দাড়াঁতে হয়েছে। এসব কথা বলেন তিনি

করোনায় লকডাউন বাস্তবায়ন স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের তত্বাবধানে মনিরের স্বেচ্ছাসেবী দল ছিল ঝিনাইগাতীর প্রধান সড়কে, উপজেলা প্রশাসনের সহায়ক হয়ে কোভিড মনিটরিং টিমের সমন্বয়ক হিসেবে স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্বও পালনও করেন তিনি।

মনিরের মানবসেবায় যেমন সুনাম রয়েছে তেমনি মফস্বল সাংবাদিকতাতেও তিনি বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন, সফল হয়েছেন। মনিরের লেখা সংবাদ প্রকাশের পর ভাঙা ঘরে থাকা পরিবার পেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের পাকা ঘর, বয়স্ক ভাতা বিধবা ভাতা পেয়েছেন অনেক নারীই। শালচূড়া-গান্ধীগাও সড়কের  ডেফলাই এলাকায় জরাজীর্ণ সেতু নিয়ে লেখায় নতুন সেতুর অনুমোদন পেয়েছে।

মনির বলেন, যতদিন সৃষ্টিকর্তা বাচিঁয়ে রাখবেন ততোদিন মানুষের জন্যই লিখে যাবো এবং কাজ করে যাবো। গরীব দরিদ্রদের কষ্ট দুর্দশা দূর করতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান এই তরুণ সাংবাদিক স্বেচ্ছাসেবকের।

পিডিএসও/ জিজাক

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
মানবসেবা,সাংবাদিকতা
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close