চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

  ১২ মে, ২০২০

চকরিয়ায় হামলার পর উল্টো মামলা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বসতভিটার জের ধরে স্কুলছাত্রীসহ পরিবারের সদস্যকে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করার পর প্রতিপক্ষকে মামলা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। গত ৪ মে বিকালে উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডস্থ মরংঘোনা পূর্ব পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুলু আক্তারের বসতভিটার জায়গা নিকট আত্নীয় মুজিবুর রহমান এর নমীয় চাচা জাহাঙ্গীর আলম(৫০), হুমায়ুন কবির (৪৪) উভয় পিতাঃ মৃত আব্বাছ আহমদ থেকে খরিদা চুক্তিমূলে স্বত্ব দখলীয় মালিক হয়। উক্ত জমি খরিদের পর মুজিবুুর রহমানের নির্দেশে উক্ত জায়গায় বসত ঘর করে শান্তপূর্ণভাবে স্বপরিবারে বসবাস করছেন।

পরবর্তীতে চাচা জাহাঙ্গীর আলম ও হুমায়ুন কবির অন্য লোকের জমি বুলু আক্তার গংকে গোপনে বিক্রি করে বিক্রয়কৃত জমির টাকা আত্নসাৎ করে।বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পর বিক্রেতাগণ কৌশল অবলম্বন করে জায়গার নমীয় মুজিবুর রহমানকে রেজিস্ট্রি না দিয়ে জোরপূর্বক বুলু আক্তারের পরিবারকে উচ্ছেদ করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেে।

অন্যদিকে গত ৪ মে বিকালে পূর্বপরিকল্পিত অনুযায়ী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অনাধিকার প্রবেশ করে ক্রেতার বসতঘর ভাংচুর চালায়। এতে বাধা প্রদান করায় অমানুষিক হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করে টাকা, স্বর্ণালংকারসহ বাড়ির মূল্যবান জিনসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায়। এসময় স্কুলপড়ুয়া ছোটবোন নাঈমা জন্নাত এগিয়ে আাসলে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে চলে যায় তারা। পরে তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসার পর আহতদের উদ্ধার চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত ডাক্তার তাদের জখম গুরুতবর হওয়ায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠায়।

এরপর উক্ত বিষয়ে বুলু আক্তার বাদী হয়ে ৯ মে চকরিয়া থানায় ৯ জনকে আসামি করে একটি মামলা রুজু করেন। এ বিষয়ে বুলু আক্তারের বোন হাসিনা আক্তার এ প্রতিবেদকের কাছে জানান, হামলার মূল নেপথ্যকারী জাহাঙ্গীর ঘটনার মোড় ঘুরানোর জন্য গত ৬ মে আহত হয়েছে মর্মে মেয়ে জয়নব বেগমকে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন।উল্লেখিত ভুয়া রুজু বানিয়ে ৯ মে পাল্টা বুলু আক্তারের পরিবারকে আসামি উল্লেখ করে এজাহার দায়ের করেছেন বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃত ঘটনা কারা ঘটিয়েছে এলাকাবাসী অবগত। তাছাড়া ঘটনা সংগঠিত হয়েছে ৪ মে। কিন্তু প্রতিপক্ষের মামলার এজাহার অনুসারে হাসপাতালে ভর্তি উল্লেখ করা হয়েছে ৬ মে। এতে কি প্রতীয়মান হয় না প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উল্টো মামলা দিয়ে ফাঁসানোর পাঁয়তারা ছাড়া আর কিছু নয়। তাই তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্স (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, ৮ মে বুলু আক্তার বাদী হয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ৯ জনকে আসামি করে এজহার দাখিল করেছেন। ৯ মে এজহারটি মামলার নথিভুক্ত করে সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. আব্দুল বাতেনকে মামলার তদন্তভার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পিডিএসও/তাজ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
চকরিয়া,মামলা,প্রতিপক্ষের হামলা
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়