ডা. দিদারুল আহসান

  ২০ এপ্রিল, ২০১৭

ছেলেদের একটি রোগ

ক্ল্যামিডিয়্যা ছেলেদের ক্ষেত্রে অতি সাধারণ যৌনবাহিত সংক্রমণ। অনেক ছেলেই সচরাচর জানে না, তার ক্ল্যামিডিয়্যা সংক্রমণ রয়েছে। কারণ, তাদের কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে। যা হোক, ক্ল্যামিডিয়্যা মহিলা যৌন সঙ্গিনীকে সংক্রমিত করতে পারে এবং গুরুতর সংক্রমণ ঘটায় ও জটিলতা সৃষ্টি করে। নবজাতকও এই জটিলতার শিকার হয়ে থাকে।

কিভাবে সংক্রমণ ঘটে : যে জীবাণুটি সংক্রমণ ঘটায়, তার নাম ক্ল্যামিডিয়্যা ট্র্যাকোম্যাটিস। এসব জীবাণু ব্যাক্টেরিয়ার মতো একই ধরনের। সংক্রমণ সাধারণত যৌন সঙ্গমের সময় একজনের মধ্য থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়ায়। এগুলো অস্বাভাবিক যৌন সম্পর্ক স্থাপনের কারণে পায়ু এলাকায়ও হতে পারে। পুরুষের ক্ষেত্রে ক্ল্যামিডিয়্যা সাধারণত মূত্রনালিকে সংক্রমিত করে। মূত্রনালি হচ্ছে একটি নল, যা পুরুষাঙ্গের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে। মূত্রনালির মধ্য দিয়ে প্র¯্রাব ও যৌন রস (বীর্য) বেরিয়ে যায়। মূত্রনালির সংক্রমণকে বলা হয় ইউরিথ্রাইটিস। ক্ল্যামিডিয়্যা এপিডিডিমিস কিংবা প্রোস্টেট গ্রন্থিকেও সংক্রমিত করতে পারে। এপিডিডিমিস হলো একটি ছোট গ্রন্থি, যা অন্ডকোষের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। এটা শুক্রাণু উৎপাদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। প্রোস্টেট গ্রন্থি থাকে পুরুষাঙ্গের গোড়ায়। এটা শুক্রাণুর জন্য পুষ্টি উপাদান তৈরি করে। এপিডিডিমিসের সংক্রমণকে বলা হয় এপিডিমাইটিস। প্রোস্টেটের সংক্রমণকে বলা হয় প্রোস্টেটাইটিস। পায়ুপথে সঙ্গম করলে মলদ্বার এবং মলনালিও সংক্রমিত হতে পারে।

উপসর্গগুলো কী কী : সচরাচর কোনো উপসর্গ থাকে না। যদি মূত্রনালি সংক্রমিত হয়, তাহলে আপনার এসব উপসর্গ থাকতে পারে-

* পুরুষাঙ্গের মাথা থেকে রস নিঃসৃত হওয়া।

* প্রস্রাব করার সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া করা।

* এপিডিডিমিসে সংক্রমিত হলে অন্ডকোষে ব্যথা করে।

প্রোস্টেট গ্রন্থি সংক্রমিত হলে যেসব উপসর্গ দেখা দেয়, সেগুলো হচ্ছে-

* মূত্রনালি থেকে নিঃসরণ।

* প্রস্রাব করার সময় কিংবা প্রস্রাবের পর ব্যথা বা জ্বালাপোড়া করা অথবা অস্বস্তি বোধ করা।

* যৌন সঙ্গমের সময় কিংবা যৌন সঙ্গমের পর ব্যথা করা।

* পিঠের নিম্নভাগে বা কোমরে ব্যথা করা।

কখনো কখনো প্রোস্টেট কিংবা এপিডিডিমিসের সংক্রমণ হঠাৎ তীব্র হয়। এ ধরনের সংক্রমণের ফলে জ্বর হয় অথবা অসুস্থতার অন্য লক্ষণগুলো দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন হয়।

পায়ুপথ সংক্রমিত হলে যেসব উপসর্গ দেখা দেয়-

* পায়ুপথের চারপাশে জ্বালাপোড়া করা।

* পায়খানা করার সময় ব্যথা করা।

রোগ নির্ণয় করবেন কিভাবে : রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রথমেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ শনাক্ত করা সম্ভব। মূত্রনালির সংক্রমণ নির্ণয়ের জন্য মূত্রনালির মুখের নিঃসরণ পরীক্ষা করা হয়। এ ক্ষেত্রে পুরুষাঙ্গের মাথায় মূত্রনালির মুখে একটি সরু সোয়াব ঢোকানো হয়। ক্ল্যামিডিয়্যার জন্য আপনাকে একটি প্রস্রাবের পরীক্ষাও করানো হতে পারে। যদি আপনার পায়ুপথে উপসর্গ থাকে, তাহলে পায়ুপথের নিঃসরণ পরীক্ষা করাতে হবে।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যাবে, আপনার সংক্রমণে কী এবং কোন অ্যান্টিবায়োটিক সবচেয়ে ভালো কাজ করবে। তবে সচরাচর এপিডিডিমিস ও প্রোস্টেট গ্রন্থির সংক্রমণের জন্য দায়ী জীবাণুকে শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।

চিকিৎসা : সাধারণত সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণে সংক্রমণ সেরে যায়। বেশিরভাগ মূত্রনালির সংক্রমণে সাত দিন অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা প্রয়োজন। কখনো কখনো একক মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে সংক্রমণের চিকিৎসা করা যেতে পারে। প্রোস্টেট গ্রন্থির সংক্রমণের জন্য দুই থেকে চার সপ্তাহ চিকিৎসা করানো প্রয়োজন হতে পারে।

লেখক : চর্ম ও যৌন ব্যাধি বিশেষজ্ঞ

আল-রাজী হাসপাতাল, ঢাকা; ফোন ঃ ০১৭১৫৬১৬২০০।

ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ;

ফোন : ০১৬৮২২০১৪২৭।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Error!: SQLSTATE[42S02]: Base table or view not found: 1146 Table 'protidin_sangbad.news_hits_counter_2020_04_07' doesn't exist
Error!: SQLSTATE[42S02]: Base table or view not found: 1146 Table 'protidin_sangbad.news_hits_counter_2020_04_07' doesn't exist