নাগরিক অধিকার

সামনে নির্বাচন। বাতাসে তারই আভাস। উষ্ণতাও কম নয়। সাধারণ মানুষ এবার নির্বাচনকে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে পেতে চায়। পেতে চায় নাগরিক অধিকার। অধিকার প্রশ্নে সমাবেশের স্বাধীনতা মানুষের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারগুলোর মধ্যে সমধিক গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৪৮ সালের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক মানবাধিকার দলিলে এবং জাতীয় সংবিধানে এই স্বাধীনতা স্থান পেয়েছে। মুক্তভাবে কথা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাও এই মৌলিক মানবাধিকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় বিভিন্ন বিষয়ে জনমত গঠনে সভা-সেমিনার তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। মানুষের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে সভা-সেমিনারের প্রভাব অনস্বীকার্য। ইউরোপীয় মানবাধিকার ব্যবস্থায় সমাবেশের স্বাধীনতাকে গণতান্ত্রিক সমাজের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা নাগরিকের অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হওয়ার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে। এখানে সুস্পষ্ট লক্ষণীয় যে, এ অধিকারটি শুধু বাংলাদেশের নাগরিকদের চর্চার বিষয়; বাংলাদেশে বসবাসরত বা কর্মরত বিদেশিদের জন্য নয়। তবে সমাবেশের স্বাধীনতা নিরঙ্কুশ প্রকৃতির নয়। রাষ্ট্র প্রয়োজনবোধে এর ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে। অর্থাৎ সমাবেশের স্বাধীনতা কতগুলো শর্তের অধীনে হতে হবে। ১. সমাবেশটি হবে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে। ২. এতে যোগদানকারী কোনো সদস্য অস্ত্র বহন করতে পারবে না। এবং ৩. জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে এর ওপর যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ আরোপ করা যাবে।
সমাবেশের অধিকারকে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদানের পাশাপাশি তা নিয়ন্ত্রণের জন্যও আইন রয়েছে। একটি সমাবেশ কখন কোথায় বা কোন পরিস্থিতিতে অবৈধ হবে, কিভাবে ছত্রভঙ্গ করতে হবে ইত্যাদি বিষয় দ-বিধি, ফৌজদারি কার্যপদ্ধতি ও অন্যান্য পুলিশি আইনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। তবে সমাবেশের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের কারণ হিসেবে জনশৃঙ্খলা ও জনস্বাস্থ্যের কথা বলা হলেও এ দুটো শব্দকে সংবিধানে কিংবা অন্য কোনো আইনে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। ফলে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী কর্তৃপক্ষকে স্বীয় বিচারবুদ্ধি, বিবেক ও সুবিবেচনা ভিত্তিতে বিধিনিষেধ আরোপ করতে হয়। সমাবেশের স্বাধীনতাকে খর্ব না করে সরকারি কর্তৃপক্ষ যৌক্তিকভাবে ও কোনোরূপ ভেদাভেদ সৃষ্টি না করে সভা-সেমিনারের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট কোনো স্থান বা রাস্তা ব্যবহারের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিধান প্রবর্তন করতে পারে। পাশাপাশি এ কথা বলে রাখা জরুরি যে, গণতন্ত্রের স্বার্থে সমাবেশকারীদেরও হতে হবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
"




































