নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
নবীনগরে পবিত্র কোরআন শরীফে আগুন, ফাঁসির দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের বাড়িখলা গ্রামের মধ্যপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার আলমারিতে রাখা পবিত্র কোরআন শরীফে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার এই জঘন্য অভিযোগে বাইজিদ আহমেদ (৩২) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে এবং শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে অভিযুক্ত যুবকের সর্বোচ্চ শাস্তি (ফাঁসি) নিশ্চিতের দাবিতে নবীনগরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়িখলা গ্রামের খোকা মেম্বারের ছেলে বাইজিদ আহমেদ দীর্ঘদিন ধরেই মাদকাসক্ত এবং কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন। স্থানীয়রা জানায়, সে সম্প্রতি পবিত্র কোরআন শরীফে 'ভুল রয়েছে' এমন অসঙ্গত মন্তব্য করে আসছিল। শুক্রবার বিকেলে বাইজিদ মাদ্রাসার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে আলমারি থেকে বেশ কয়েকটি কোরআন শরীফ বের করে সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন লাগার বিষয়টি টের পেয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে বাইজিদকে হাতেনাতে আটক করেন। পবিত্র ধর্মগ্রন্থের অবমাননার মতো জঘন্য ঘটনায় দ্রুত এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং উত্তেজিত জনতা বাইজিদকে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে নবীনগর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জনরোষ থেকে বাইজিদকে উদ্ধার করে।
পবিত্র কোরআন শরীফ অবমাননার এই বর্বর ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সকালে নবীনগরের সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। অভিযুক্ত বাইজিদকে 'কুলাঙ্গার' আখ্যা দিয়ে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি (ফাঁসি) নিশ্চিতের দাবিতে শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। 'বাইজিদের ফাঁসি চাই' স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিলটি নবীনগর পৌর সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের ভেতরেও প্রবেশ করে। বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে বাইজিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে। মিছিলটি নবীনগর থানা, উপজেলা গেইট ও নবীনগর প্রেসক্লাবের সামনে এসে সমাপ্ত হয়।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার ফলে স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে বাইজিদকে মারধর করে। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও নিশ্চিত করেন, পবিত্র কোরআন শরীফে আগুন ধরিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অভিযুক্ত বাইজিদ আহমেদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে। আইন অনুযায়ী মামলার পরবর্তী প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।









































