মাসুম বিল্লাহ, শালিখা (মাগুরা)
সিত্রাংয়ে উপড়ে গেল ৩০০ বছর বয়সী তমাল গাছ

‘না পোড়াইও রাধা অঙ্গ, না ভাসাইও জলে, মরিলে বাঁধিয়ে রেখো তমালেরই ডালে।’ এ আকুলতাই বলে দেয় তমাল শুধু একটা গাছ নয়, এই গাছের সঙ্গে আরও একজন জড়িয়ে আছেন, রাধার অন্তরজুড়ে যার ঠাঁই। তার বিরহে রাধা একা, শূন্য। তমালের ডালে বসেই কৃষ্ণ যে বাঁশি বাজিয়েছেন! ‘কৃষ্ণ কালো তমাল কালো তমাল ভালোবাসি, তমালের ডালে কৃষ্ণ বাজাইত বাঁশি।
তমাল গাছ নিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেনÑ ‘ওরে তরু তমাল শাখা, আছে পল্লবে তোর মোর বল্লভ কৃষ্ণ কান্তি মাখা, আমি তাই তো তমাল কুঞ্জে আসি, তাই তো তমাল ভালোবাসি। তোর পথছায়ায় আছে যে তার চরণচিহ্ন আঁকা। এছাড়াও রাধা-কৃষ্ণের সুবাদে সাহিত্যের নানা শাখায় আছে তমালের কথা। তমাল আছে লোকগীতি, বৈষ্ণব কবিতা ও সংস্কৃত কাব্যেও।
এমনই একটি তমাল গাছ ছিল মাগুরার শালিখা উপজেলার বড় থৈপাড়া ঠাকুর বাড়িতে। সোমবার (২৪ অক্টোবর) সিত্রাং ঘুর্ণিঝড়ের আঘাতে ভেঙে পড়েছে ৩০০ বছরের স্মৃতিবাহী এই তমাল গাছ। গাছটি ভেঙে পড়ায় অনেকটা নির্বাক হয়ে পড়েছেন মালিক সুনীল মজুমদার। ঐতিহ্যবাহী গাছটির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। বলেন, তমাল গাছটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে মা-বাবা, ঠাকুরদাসহ অনেক আপনজনের স্মৃতি। সরকারিভাবে গাছটি সংরক্ষণ করলে শুধু স্মৃতি নয় দুর্লভ একটি গাছের সংরক্ষণ হতো। প্রতিবেশি রমা বিশ^াস বলেন, অর্ধশত বছর ধরে গাছটির নিচে শিবের পূজা করছি। ছোটবেলা থেকে ঠাকুরদাদাদের মুখে শুনে এসেছি তমাল গাছের নানা গুনের কথা, নানা গল্প।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে উপড়ে পড়েছে গাছটি। ঝড়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে ছিড়ে গেছে তার শিকড়গুলো। স্থানীয়রা বলছেন গাছটির বয়স আনুমানিক ৩০০ বছর। সিত্রাংয়ের আঘাতে শিকড় ছিড়ে যাওয়া এবং শিকড়ের মাটি ধুয়ে যাওয়া গাছটির সব থেকে বড় সমস্যা। অবহেলা আর অযত্নে কোনো রকমে গাছটি তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছিল বলে জানান মালিক সুনীল মজুমদার। শালিখা বিএম কলেজের অধ্যক্ষ সুকান্ত মজুমদার জানান, দুর্লভ গাছ হিসেবে এটি সংরক্ষণ করা জরুরি ছিল। গাছটি সংরক্ষণের ব্যাপারে ইতিপূর্বে প্রশাসনকে অবহিত করেও কোনো লাভ হয়নি বলে জানান তিনি।









































