ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

  ১১ অক্টোবর, ২০২১

রসিক রায় জিউ মন্দিরে ১৪৪ ধারা জারি

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা নিয়ে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও ইসকন সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কায় শ্রী শ্রী রশিক রায় জিউ মন্দিরে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ নিয়ে ঐ মন্দিরে ১২ বছর ধরে পূজা বন্ধ রয়েছে। 

সোমবার (১১ অক্টোবর) দুপুর ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহরিয়ার রহমান।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের মাদারগঞ্জ ও ভাতগাঁও মৌজায় গ্রামে অবস্থিত শ্রী শ্রী রশিক রায় জিউ মন্দিরে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারির আদেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। 

আউলিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান বলেন, জমিদার বর্ধামনি চৌধুরাণী প্রায় ১০০ বছর আগে আউলিয়াপুর ইউনিয়নের মাদারগঞ্জ ও ভাতগাঁও মৌজা এলাকায় শ্রী শ্রী রশিক রায় জিউ মন্দির নির্মাণ করেন।

এছাড়াও মন্দির পরিচালনার জন্য ওই জমিদার আরও ৮১ একর সম্পত্তি দান করেন। এরপর মন্দিরের আয়-ব্যয় নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়। এরপর আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) রশিক রায় জিউ মন্দির পরিচালনা করার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। 

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) মন্দির পরিচালনার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই আধিপত্য নিয়ে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও ইসকনের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে ২০০৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রশিক রায় জিউ মন্দিরে দুর্গাপূজা নিয়ে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও ইসকন সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। সে সময় ইসকনভক্তদের হামলায় মন্দিরের সেবায়েত ফুলবাবু নিহত হন। সেই থেকে ওই মন্দিরে দুর্গাপূজার সময় স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে আসছে।

এদিকে মন্দিরের সেবায়েত ফুলবাবু নিহত হওয়ার ঘটনায় তখন ইসকনের বর্তমান মহারাজসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছিল। মামলাটি এখনো বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। 

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহরিয়ার রহমান বলেন, মন্দিরের জমি নিয়ে এটি দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিরোধের জেরে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে। এ বছর একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, তাই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারির আদেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্গাপূজা শেষ হলে ১৪৪ ধারা তুলে নেওয়ার চিন্তা রয়েছে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ বলেন, বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার জন্য দুই পক্ষের সঙ্গে একাধিকবার বসার চেষ্টা করেছি আমরা। কিন্তু কোনো পক্ষই আলোচনায় বসতে আগ্রহী হয়নি। তারপরও বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য আমরা চেষ্টা করছি। এবছর নিয়ে শ্রী শ্রী রশিক রায় জিউ মন্দিরে ১২ বছর ধরে পূজা হয়না। 

ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, শ্রী শ্রী রশিক রায় জিউ মন্দিরে ১৪৪ ধারা জারি করার পর থেকে সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সাথে পুরো মন্দির এলাকা আমরা গোয়েন্দা নজরদারিতে রেখেছি। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
 

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
রসিক রায় জিউ মন্দির,১৪৪ ধারা জারি
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close