কে এম রুবেল, ফরিদপুর

  ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

ফরিদপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক প্রণোদনার দাবি

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

ফরিদপুরে গত ২৫ দিনের বন্যায় জেলার নয় উপজেলায় দুই হাজার হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল পানিতে ডুবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে পদ্মা, মধুমতি ও আড়িয়াল খাঁ অববাহিকার কৃষকরা এই ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্ত সূত্রে জানা গেছে, চলতি বর্ষা মৌসুমে চলমান বন্যায় ২৫ দিনের প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এতে আউশ ধান ও রোপা আমন ১ হাজার ৭শ হেক্টর, সবজি ৭৬ হেক্টর, মরিচ ৫০ হেক্টর, কলাবাগান ২৭ হেক্টরসহ অন্যান্য ফসল রয়েছে।

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম সাহা জানিয়েছেন, গত ৪/৫ দিন যাবৎ পদ্মার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে এখনো জেলার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলার সদর উপজেলার তিন ইউনিয়ন, চরভদ্রাসন উপজেলার তিন ইউপি, সদরপুর উপজেলার দুই ইউপি, মধুখালী উপজেলার দুই ইউপি, ভাঙ্গা উপজেলার দুই ইউপি, আলফাডাঙ্গা উপজেলার তিন ইউপির কৃষকের ফসলের ক্ষেত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান বলেন, আমার ইউনিয়নের আউশ ধান ও সবজি ক্ষেতে বেশি ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগকে জানানো হয়েছে, তারা ক্ষয়-ক্ষতি নিরুপন করছেন।

একই কথা জানালেন, সদরের ডিক্রীরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান মিন্টু ফকির। তিনি বলেন, এই ইউনিয়নের টি পদ্মা নদী বেষ্ঠিত। যে কারেন যতোটুকু ফসল কৃষক করেছে সবই পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

এদিকে, আড়িয়াল খা ও মধুমতি নদীর পানিতে সদরপুর, ভাঙ্গা এবং মধুখালী, আলফাডাঙ্গার উপজেলার নদীর নিকটবর্তি এলাকার কৃষি জমি তলি মরিচ, আউশ ধান, সবজি ও বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মধুখালী উপজেলার চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম জানান, এ উপজেলাতে মরিচ ও সবজির আবাদ বেশি হয়, মধুমতির পানিতে ক্ষেতগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি সরকারের কাছে দাবি তুলে কৃষকরা যাতে আর্থিক ক্ষতির মুখে না পড়ে সেদিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।

চলমান বন্যা জেলার ফসলের ক্ষয়-ক্ষতির বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. হযরত আলী জানান, বন্যায় ফসলের যেমন ক্ষতি হয় তেমনি পানি নেমে গেলে ফসলের আবাদও ভালো হয়। তবে এবারের ২৫ দিনের বন্যায় জেলার দুই হাজার হেক্টরের বেশি জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, পানি নেবে যাওয়ার পরেই কৃষকদের মাসকলাই বীজ প্রণোদনা হিসাবে দেওয়া হবে।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার কৃষকদের ক্ষতি প্রসঙ্গে বলেন, কৃষকদের সরকার স্বল্প সুদে কৃষি প্রণোদনা দিচ্ছে, তার পরে অধিক ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে আমরা আর্থিক সহায়তা করবো।

পিডিএসও/ইউসুফ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
ফরিদপুর,বন্যার পানি,ফসলের ক্ষতি,প্রণোদনা দাবি
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close