মো. আবু সাইদ খোকন, আমতলী (বরগুনা)
বিলুপ্তির পথে হোগলা পাতা

বরগুনার আমতলী উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে পরিবারের প্রায় বেশির ভাগ সদস্যই বংশপরম্পরায় হোগলা পাতা দিয়ে বিভিন্ন পণ্য তৈরির পেশায় জড়িত ছিল এক সময়।
বর্তমানে ডিজিটালের ছোঁয়ায় ও অবৈধ দখলে হোগলাপাতা চাষের জমি কমে এই শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে। অথচ প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এটি হতে পারে দেশের অর্থনৈতিক জোগানদাতা।
হোগলাপাতার ইংরেজি নাম সি-গ্রাস বা সামুদ্রিক ঘাস। উপকূলীয় এলাকার মানুষের কাছে এই হোগলাপাতার তৈরি সামগ্রী সংসারের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বাড়তি আয় রোজগারের একটি মাধ্যম ছিল।
একসময় হোগলাপাতা দিয়ে বিছানা, দড়ি, ফ্লোরম্যাট, টেবিল, রান্নার সামগ্রী রাখার ঝুড়ি, পেপার, ট্রে, ফলের ঝুড়ি, শোপিসসহ বিভিন্ন পণ্য দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। বেত ও বাঁশের চেয়ে দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় এসব সামগ্রী তৈরিতে খরচও কম।
হোগলা পাতা শিল্পর সাথে জড়িত কয়েকজন জানান, একসময় হোগলাপাতার মাদুর ছিল শৌখিনতার প্রতিক। এ অঞ্চলের পরিবারগুলো হোগলাপাতার পণ্য তৈরির কাজে নেমে পড়ত সংসারের বাড়তি আয়ের আশায়। গ্রামের কৃষক, দিনমজুর, অনেকেই এ পেশার সাথে জড়িত। বর্তমানে হোগলাপাতার দাম বৃদ্ধি ও মজুরির ন্যায্য মূল্য তারা পাননা বিধায় এ কাজে তারা উৎসাহ হারাচ্ছেন।
উপজেলার, হলদিয়া, চাওড়া, আঠারগাছিয়া, কুকুয়া, গুলিশাখালী, আমতলী সদর, কুকুয়া, আড়পাঙ্গাশিয়া, ইউনিয়ানের নদীতীরবর্তী এলাকায় এক সময় হোগলাপাতার চরদেখা যেত। কিন্তু এসব এলাকার নদীগুলো মরে যাওয়ায় আর অবৈধ দখল দারররা জমি দখল করে ধান চাষ ও বাড় ঘর করায় হোগলাপাতার চর আর দেখাই যায়না।
হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার মো. জাকির হোসেন জানান, সাধারণত ফাল্গুন-চৈত্র মাসে প্রাকৃতিকভাবে এসব চরে হোগলাপাতা জন্মাতো। পাতা ১০-১৫ ফুট লম্বা হয়। পৌষ মাসে পাতা কেটে ভালো করে রোদে শুকিয়ে আঁটি বাঁধা হয়।
বাজারে সাধারণত পাঁচ হাত দৈর্ঘ্য ও চার হাত প্রস্থ হোগলার বিছানা পাওয়া যেত। একেকটি বিছানার দাম ৪০-৫০ টাকা, আর দড়ি তৈরির জন্য বড় এক বান্ডেল হোগলাপাতার দাম ৩০০-৪০০ টাকা, যা থেকে সাত হাজার হাতের বেশি দড়ি তৈরি হয় এবং প্রতি হাত দড়ি ১০-১২ টাকা বিক্রি করা হয়। হোগলাপাতার ফুল বা রেণু সুস্বাদু খাবার হিসেবে মানুষ শখ করে যাকে এঅঞ্চলের মানুষ গোদ বলে।
আমতলী উপজেলা কৃষি অফিসার সিএম রেজাউল করিম বলেন, এক সময় হোগলাপাতা শিল্পের সাথে এ অঞ্চলের একটি বৃহৎজনগোষ্ঠী জড়িত ছিল। হোগলাপাতা শিল্প নিয়ে কোন গবেষনাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি বেসরকারিভাবে পৃষ্টপোষকতা করলে অনেক মানুষের কর্মস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনেতিকভাবে লাভবান হবে এ অঞ্চলের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী।
পিডিএসও/এসএম শামীম









































