বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি

  ২২ জুন, ২০২১

সুর্যাপুরী আম প্রতি কেজি ৭ টাকা

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার গ্রামের ছোট হাটগুলোতে সুর্যাপুরী পাকা আম বিক্রি হচ্ছে ৭ টাকা কেজি দরে। আর কাঁচা আম বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকা কেজি দরে। করোনার প্রভাবে বাজারে ক্রেতার আগমন না হওয়া এবং অন্য জেলা থেকে আম ক্রয়ের চাহিদা কমে যাওয়ায় বাজারের এমন বিপর্যয় ঘটেছে বলে স্থানীয় আম বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন।

মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার লাহিড়ী, খোচাবাড়ী, স্কুলহাট, কুশলডাঙ্গী, বাদামবাড়ী, হলদিবাড়ী, কালমেঘসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আমের ব্যবসায়ীরা আম নিয়ে বসে থাকলেও বাজারে ক্রেতা নেই। দু-একজন ক্রেতা থাকলেও তারা স্থানীয়। বহিরাগত ক্রেতা নেই বললেই চলে।

বাজারে সুর্যাপুরী আম প্রতিমণ কাঁচা বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা,  আম্রপালি ৭০০ টাকা, হিমসাগর ১০০০ হাজার ৪০০ টাকা, লখনা আমের প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা, ল্যাংড়া আমের প্রতিমণ ৬০০ টাকা। কাঁচা আমের তুলনায় পাকা আমের মূল্য অর্ধেকের চেয়ে আরও কম।

গত বছর বাজারে সুর্যাপূরী আম ৫০-১০০ টাকা কেজি, আম্রপালি ৭০-১০০ টাকা কেজি, হাড়িভাটা ৮০-১৫০ টাকা, ল্যাংড়া ৯০-১৫০ টাকা, হিমসাগর ৮০-১৫০ টাকা, আশ্বিনা ৫০-১৫০ টাকা এবং বাড়ি-৪ আম ১০০-২৫০ টাকা কেজি দরে প্রতি বছর বিক্রি হয়েছিল।

মঙ্গলবার দুপুরে কুশলডাঙ্গী বাজারে ছিদ্দিকা বেগম দুই কেজি সুর্যাপুরী আম কিনেছেন ১৪ টাকা দিয়ে। তিনি জানান, গত বছর এই আম শুরুতেই ৫০ টাকা কেজি দরে কিনে খেতে হয়েছিল। এ বছর অনেক সস্তা।

ঠাকুরগাঁও জেলা সংবাদদাতা হিসেবে একটি বেসরকারি টিভির সাংবাদিক ফজলে আলম বুলবুল রোববার সকালে বালিয়াডাঙ্গী বাজার থেকে ৪ মণ আম কিনেছেন ৩ দুইশত টাকা দিয়ে। তিনি জানান, আমের দাম কম শুনে ঠাকুরগাঁও থেকে সকালেই এসেছি আম কিনতে। ভালো মানের আম কিনলাম।

বালিয়াডাঙ্গী বাজারের আম ব্যবসায়ী হারুন জানান, বাজারে আমের ক্রেতাও নেই, দামও নেই। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে বাইরে থেকেও আম কিনতে কেউ আসেনি। বিক্রি না হওয়ার কারণে পাকা আম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

আব্দুল্লাহ নামে আরেক ব্যবসায়ী জানান, আমের বাজার সাধারণত শুরু হয় বিকাল ৪টার পর। কিন্তু করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য কয়েকদিন ধরে এলাকায় কঠোর বিধি নিষেধ শুরু হয়েছে। ৫টা পর সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সবাই নিজ নিজ বাড়ীতে চলে যাচ্ছে। ১ ঘণ্টায় আর কত আম বিক্রি করবেন।

দুওসুও ইউনিয়নের আলোকছিপি গ্রামের আম্রপালি আমবাগান মালিক রেজওয়ানুল কবির জানান, গত বছর ফলন কম হলেও দাম ছিল। আম বিক্রি করে বাগান দেখাশুনা ও পরিচর্যার খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পরিস্থিতি এক সপ্তাহের মধ্যে ভালো না হলে আম ব্যবসায়ীদের চরম লোকসান গুনতে হবে।

উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় চারশত ৩১ হেক্টর জমিতে সুর্যাপুর, আম্রপালি, হাড়িভাঙ্গা, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, হিমসাগর, আশ্বিনা, বাড়ি-৪ সহ বিভিন্ন প্রজাতির আম চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সুর্যাপুরী ও আম্রপালি আমের বাগান বেশি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে গত ৩ বছর ধরে আম বিক্রি করছেন এস এম মনিরুজ্জামান নামে শিক্ষার্থী। তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর অনলাইনে তেমন সাড়া নেই। দাম কম হলেও চলতি বছর এখন পর্যন্ত ২০ মণ আমের অর্ডার পায়নি। গত বছর প্রায় ২০০ মণ আম বিক্রি করেছি অনলাইন প্লাটফর্মে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) যোবায়ের হোসেন জানান, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে বিধি নিষেধ জারি করা হয়েছে জনস্বার্থে। আম বিক্রিতে অনলাইন প্লাটফর্ম এখন বেশ জনপ্রিয়। ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকদের অনলাইন মাধ্যম ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া ছাড়া এই মুহূর্তে কোনো কিছু বলার নেই। যদি তারা কারিগরি সহায়তা চান, আমাদের উপজেলা প্রশাসন থেকে সব ধরনের পরামর্শ প্রদান করা হবে।

পিডিএসও/ইউসুফ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
বালিয়াডাঙ্গী,ঠাকুরগাঁও,করোনাভাইরাস,৭ টাকা কেজি,সুর্যাপুরী আম
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close