মিজানুর রহমান, ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট)

  ২২ জুন, ২০২১

সরকারি ভবন নির্মাণে বালুর পরির্বতে মাটি ব্যবহার!

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) নির্মাণ কাজে ব্যাসের গোড়া ও মেঝেতে বালুর পরির্বতে মাটি, নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ম্যানেজারের দাবি বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে, আর বালু সরবরাহকারী বলছেন, ঠিকাদারের ম্যানেজার মাটিই চেয়েছেন।

জানা গেছে, জয়পুরহাট স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে নির্মানাধীন ২০২০ সালে মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) ক্ষেতলাল পৌর এলাকার বটতলী বাজার সংলগ্ন ২.৯৭ একর জমি অধিগ্রহণ করে নির্মাণ শুরু করেন। ওই ম্যাটস নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমএস এন্টারপ্রাইজ, ময়মনসিংহ। ওই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী জনৈক খন্দকার মাহবুব। যার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ কোটি ৫৬ লক্ষ ৮১ হাজার ৭ শত ৮৪ টাকা। গত বছরের ৭ জুন এ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন জয়পুরহাট-২ আসনের এমপি, হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আসাদুজ্জামান জানান, স্থানীয় কয়েকজন লোকজনকে এই প্রজেক্টে বালু, ইট, কাঠ সরবরাহের দায়িত্ব দেয়া হয়। তারা এই প্রজেক্টের নির্মাণ কাজের শুরু থেকে সেগুলো সরবরাহ করছেন। এ কাজ তদারকি করছেন জয়পুরহাট জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকৌশলী ও আমি নিজে আমার আরো দুই সহযোগী রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই নির্মাণাধীন ম্যাটসের ব্যাস ঢালাইয়ের গোড়ালি থেকে সাড়ে ৮ ফুট উঁচু মেঝে ভরাট করার জন্য বালুর পরির্বতে মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠান থেকে বালুর মূল্য নিয়ে কম মূল্যে মাটি দিয়ে ভরাট করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আবার মেঝে সাটারিং ও আরসিসি ঢালাইয়ের পরির্বতে মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। ইটের সলিং বিছিয়ে নিম্নমানের বালু ও ইটের খোয়া দিয়ে ছয় ইঞ্চির পরির্বতে তিন ইঞ্চি ঢালাই করছে। ওই ম্যানেজার  বলেন, মেঝে ভরাটের কোনো নির্দেশনা নেই, সাটারিং আরসিসি ঢালাইয়ের নির্দেশনা আছে। কাজটি সহজ করার জন্য মেঝে ভরাট করা হয়েছে। এতে ঠিকাদারের অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। গণমাধ্যমকর্মীরা চলমান কাজের তদারকিতে জয়পুরহাট জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকৌশলী বা তার কোনো প্রতিনিধিকে দেখতে পাননি।

মাটি সরবরাহকারী আবু বক্কর সিদ্দিক রেজা, ইমাম হোসাইন ও এসএম আব্দুল্লাহ্ জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আসাদুজ্জামান আমাদের কাছ থেকে বালু নয়, মাটি চেয়েছেন তাই আমরা মাটি দিয়ে মেঝে ভরাট করেছি।

নির্মাণাধীন ম্যাটস-এ মাটি নাকি বালু ব্যবহারের নিদের্শনা রয়েছে এবিষয়ে জানতে জয়পুরহাট জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারি প্রকৌশলী মাহিনুর ইসলাম এর সঙ্গে কথা হলে প্রশ্নটি এড়িয়ে গিয়ে তিনি জুন মাসের ব্যস্ততা দেখিয়ে জয়পুরহাট অফিসে দেখা করতে বলেন।

পিডিএসও/ইউসুফ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জয়পুরহাট,ম্যাটস,নির্মাণ,মাটির পরিবর্তে বালু,অভিযোগ
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close