রায়হান সিকদার, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)

  ২০ জানুয়ারি, ২০২১

জরাজীর্ণ ভবনে বড়হাতিয়া বনবিট অফিস

অফিসকক্ষ ব্যতিত বিটের সব জায়গা বেদখলে

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি বন রেঞ্জের আওতাধীন বড়হাতিয়া বনবিট অফিসের ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ। অফিসকক্ষ ব্যতিত বিটের সব জায়গা রয়েছে বেদখলে। অফিসে যদিও ৩ জন কর্মকর্তা রয়েছেন, তবে তেমন কোন কার্যক্রম নাই বললেই চলে। জরাজীর্ণ ভবনেই অফিস ও ৩ কর্মকর্তার বাসস্থান।

দীর্ঘদিন আগের টিনের ছাউনি দেয়া অফিসটি অনেক আগে থেকে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। রোদ যেমনি টিনের ছিদ্র দিয়ে ভিতরে পড়ে, তেমনি বৃষ্টি হলেই পানিতে ভিজে যায় অফিসকক্ষ।

সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে জানা যায়, চুনতি বন রেঞ্জের আওতায় বড়হাতিয়া বনবিট কার্যালয়। এ বিটের আওতায় সমস্ত জায়গা প্রভাবশালী মহল দখল করে বনভূমি উজাড় করছে। আবার কেউ কেউ বিভিন্ন প্রকার ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ করে নিজেরা দখল করেছে।

স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বার, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আধিপত্য বিস্তার করে সিন্ডিকেট করে বনভূমি উজারের পাশাপাশি দিন দুপুরে পাহাড় কর্তন করলেও বন বিভাগের লোকজন রহস্যজনক কারণে থাকে নিরব।

এদিকে বনবিভাগের জায়গা দখল-বেদখল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চলে গ্রুপিং। যার ফলে প্রতিবছরই খুন হয় কয়েকজন দখলবাজ। অন্যদিকে পাহাড়ের বন-জঙ্গল উজাড় হওয়ায় বন্য প্রাণীরা নিয়মিত লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। বন্য হাতির পাল লোকালয়ে এসে বাড়ি-ঘর ভাংচুর করছে প্রতিনিয়ত। কৃষকের গোলাভরা ধান, ক্ষেতের ফসল নষ্ট করছে। হামলায় শিকার হচ্ছে লোকালয়ের লোকজন। আবার বন্যহাতির আক্রমনে মারাও গেছে অনেকে।

ইতোমধ্যে লোকালয়ে বন্য শূকর শিকার করতে পাতানো ফাঁদে ২ বছরের ব্যবধানে ৩টি হাতি বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। ঘটনার পর মামলাও হয়। তবে মামলায় আসামি হয় এলাকার নিরিহ লোকজন। ফলে বন্য প্রাণী হত্যা করে ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় প্রকৃত শিকারিরা।

বড়হাতিয়া বনবিট কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, বড়হাতিয়া বন বিটের আওতায় ৫ হাজার ৭শ একর পাহাড় বা বনভূমি রয়েছে। আমি অসুস্থ ব্যক্তি। ২ বার স্ট্রোক করেছি। জনবল সংকটের কারণে সবকিছু দেখাশোনা করতে পারি না। জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছি।

তিনি আরো বলেন, অফিসকক্ষ ব্যতিত বিটের আওতাভুক্ত সব জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রেখেছে প্রভাবশালীরা। অনেকে পাকা দালানও নির্মাণ করে রেখেছে। আবার অনেকে নিজেরাই বাগান করে দখল করে রেখেছে। দখলকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় এবং জনবল সংকটের কারণে বনবিভাগের বেদখল হওয়া জায়গা উদ্ধার করা যাচ্ছে না বলে তিনি জানান।

চুনতি বনরেঞ্জ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহীনুর রহমান জানান, বড়হাতিয়া বন বিট অফিসে একটিকে জনবল সংকট রয়েছে। অন্যদিকে বনবিভাগের জায়গা দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রেখেছে। আমি কিছুদিন আগে দায়িত্ব নিয়েছি। বড়হাতিয়া বনবিটের বেদখল হওয়া জায়গার ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে খুব শীঘ্রই বন বিভাগের বেদখল হওয়া জায়গাগুলো উদ্ধারে অভিযান চালানো হবে বলেও তিনি জানান। জরাজীর্ণ বিট অফিসের বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সঠিক কোন কারণ জানাতে পারেননি।

পিডিএসও/এসএম শামীম

 

জরাজীর্ণ ভবন,বড়হাতিয়া,বনবিট অফিস
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close