নওগাঁ প্রতিনিধি

  ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১৭:০২

নওগাঁয় যাত্রী ছাউনির জায়গা প্রভাবশালীদের দখলে

নওগাঁর পশ্চিম ঢাকা রোডের যাত্রী ছাউনির জায়গা অবৈধভাবে দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ব্যক্তিগত অফিস ও দোকান ঘর তৈরি করে করেছে। এতে করে প্রতিনিয়তই শত শত যাত্রীরা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে।

সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে অবস্থিত পশ্চিম ঢাকা রোড। এই জায়গাটি প্রধানত সান্তাহার ঢাকা রোড নামেই অধিক পরিচিত। নওগাঁর রাণীনগর, আত্রাই ও পাশের আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার থেকে মানুষ এই স্থান থেকে ঢাকা, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়া-আসার জন্য এই জায়গাটি ব্যবহার করে আসছেন বছরের পর বছর। ঢাকা রোড থেকে নওগাঁ শহরের দূরত্ব প্রায় ৪কিলোমিটার। তাই অধিকাংশ মানুষই বাসের জন্য এই স্থানে অপেক্ষা করেন। এই স্থানে ৯০দশকে সড়ক ও জনপদের জায়গায় জেলা পরিষদের অর্থায়নে গণশৌচাগারসহ একটি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়। পরবর্তিতে গত বছরের প্রথম দিকে নওগাঁ-বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কটি প্রশস্তকরণ করার কাজ শুরু হলে ঢাকা রোডের এই যাত্রী ছাউনি ও রাস্তার দুই পাশের অবৈধ স্থাপনাগুলো ভেঙ্গে ফেলে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। কিন্তু পরবর্তিতে যাত্রী ছাউনির জায়গাটি বোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় মেম্বার রাজু আহমেদসহ প্রভাবশালীরা দখল করে ব্যক্তিগত অফিস ও দোকান ঘর নির্মাণ করেন। কিন্তু যাত্রীদের অপেক্ষার কোন জায়গা না থাকায় এখানে আসা শত শত যাত্রী সাধারণদের প্রতিনিয়তই চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। অনেক সময় বিভিন্ন চায়ের কিংবা পানের দোকানে কোন মহিলা যাত্রী বসে অপেক্ষা করলে দোকানদার এমন কি আশেপাশের মানুষ দ্বারা ইভটিজিং ও যৌন হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

ঢাকা রোডে বাসের জন্য অপেক্ষারত যাত্রী মোশাররব হোসেন, রফিকুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, এই জায়গাটি খুবই জনগুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। প্রতিদিন ভোর বেলা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সাধারণ মানুষরা দেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচলের জন্য বাসসহ অন্যান্য যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করেন। এখানে পূর্বে একটি জরাজীর্ণ যাত্রী ছাউনি ছিল। তখন কোন যাত্রীকে অপেক্ষা করার জন্য অসুবিধাতে পড়তে হয়নি।

তারা আরও জানান, যাত্রী ছাউনিটি ভেঙ্গে ফেলার কারণে সকল যাত্রীকে বিশেষ করে মহিলা যাত্রীদের চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। প্রাকৃতিক প্রয়োজন সম্পন্ন করারও কোন ব্যবস্থা নেই।

স্থানীয় মেম্বার রাজু আহমেদ বলেন, আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে যাত্রী ছাউনির জায়গা নিয়ে অস্থায়ীভাবে টিন দিয়ে অফিস ও দোকান ঘর তৈরি করেছি।

নওগাঁ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান সাজিদ বলেন, রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজের জন্য যাত্রী ছাউনিটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। সেই সরকারি জায়গা যদি কেউ অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা তৈরি করেন তাহলে তা মুক্ত করা হবে। তবে এমন একটি জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাত্রী সাধারণদের অপেক্ষা করার জন্য একটি আধুনিক মানসম্মত যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা প্রয়োজন।

নওগাঁ জেলা পরিষদের সচিব এটিএম আব্দুল্লাহেল বাকী বলেন, জায়গাটি জেলা পরিষদের নয়। সড়ক ও জনপদ বিভাগের ছিল। তাই রাস্তা প্রশস্তকরণ করার জন্য সড়ক বিভাগ যাত্রী ছাউনিটি ভেঙ্গে ফেলেছে। তবে জনগুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে একটি আধুনিক মানের যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা প্রয়োজন। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে নতুন করে যাত্রী ছাউনি তৈরি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু জেলা পরিষদের নিজস্ব কোন জায়গা না থাকায় তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, এই স্থানে একটি যাত্রী ছাউনি নির্মাণের প্রয়োজন মর্মে আমাদের কাছে একটি লিখিত আবেদন দিলে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকার বরাবর সুপারিশ করবো। 

পিডিএসও/ জিজাক

নওগাঁ,প্রভাবশালীদের দখলে,যাত্রী ছাউনি
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়