উন্নয়নের রোল মডেল নাঙ্গলকোট পৌরসভা

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:৪৬

দুলাল মিয়া, নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা)

যে দিকেই তাকাই পাঁকা সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ল্যাম্প বাত্তি। অন্ধকার নামার সাথে সাথে পুরো এলাকা হয়ে যায় আলোকিত। দেখে মনে হয় ইউরোপের কোনো এক শহরে অবস্থান করছি। এমনি চিত্র কুমিল্লার নাঙ্গলকোট পৌরসভায়। 

মঙ্গলবার ও বুধবার নাঙ্গলকোট পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড (শ্রীয়াস্য ও বেতাগাঁও গ্রাম), ২নং ওয়ার্ড (নাওগোদা ও দৌলতপুর গ্রাম) ও ৩ নং ওয়ার্ড (হরিপুর, গোত্রশাল ও দৈয়ারা) গ্রামে ঘুরে দেখা যায়, প্রধান সড়কসহ  প্রতিটি বাড়ির আশে পাশের সকল রাস্তা আর সিসি ডালাই দেয়া হয়েছে। তারই পাশে রয়েছে ল্যাম্প লাইট ও পানি নিষ্কাসনের জন্য ড্রেনেস ব্যবস্থা। যা রাত নামার সাথে সাথে আলোকিত হয় পুরো এলাকা। আবার ওই সব সড়কের পাশে কিছু কিছু জায়গায় রয়েছে গার্ড ওয়াল, পুল ও কালভার্ট। অপরদিকে পৌর বাসীকে পানি সাপ্লই দেয়ার জন্য চলছে পাইব লাইনের কাজ। 

পৌর অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালে নাঙ্গলকোট ইউপির ১৪টি গ্রাম ও মৌকরা ইউপির ৫টি গ্রামসহ মোট ১৯টি গ্রামকে ৯ টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করে নাঙ্গলকোট পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় বিএনপি সরকারের আমলে। পৌরসভার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে তেমন কোন কাজ হয়নি। মেয়র আসে মেয়র যায়, ভাগ্য বদল হয়নি পৌর বাসির। 

২০১৬ সালে আব্দুল মালেক পৌর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর দ্বিতীয় শ্রেণির পৌরসভাকে প্রথম  শ্রেণিতে রুপান্তর করে। পাশাপাশি ১নং ওয়ার্ডে ৫ কোটি ৭২ লাখ ৯০ হাজার ৬৯০ টাকা, ২নং ওয়ার্ডে ৫ কোটি ৬৭ লাখ ৯৬ হাজার ২৩ টাকা ও ৩নং ওয়ার্ডে ১৬ কোটি ৬৬ লাখ ১৩ হাজার ০৬৯ টাকার উন্নয় কাজ হয়।   

এ বিষয়ে শ্রীয়াস্য গ্রামের মাও. মোস্তফা কামালের ষাট বছরের বৃদ্ধা স্ত্রী ফিরোজা বেগম বলেন, গত কয়েক বছর ধরে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। আগে রাস্তা ঘাটে চলা যেতো না কাঁদার জন্য। এখন বিদ্যুৎ থেকে শুরু করে সকল সুবিধা পাই। মেয়র মালেক করোনার সময় আমাদের অনেক সহযোগিতা দেয়েছে। 

নাওগোদা গ্রামের মাও. সোলেমান মজুমদার বলেন, এটি ছিলো অনুন্নত পৌরসভার। নামের পৌরসভার। বর্তমানে এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভার রূপান্তরিত হয়। যা গত সাড়ে ৪ বছরের মধ্যে এসব কাজ হয়। এখন শুধু গ্যাসের অভাব। আর কিছুর অভাব নেই।  

এ বিষয়ে পৌর মেয়র আব্দুল মালেক বলেন, অর্থমন্ত্রী আহম মোস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) এমপি আমাকে এ পৌরসভার দায়িত্ব দিয়ে বলেন, তিনি যেন পৌরবাসিকে ভালোবাসেন। তাই তিনি পৌরবাসির পাশে আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। তিনি আরো বলেন, পৌরসভার ওয়ার্ড গুলোর মধ্যে ৩ নং ওয়ার্ডে বঙ্গবন্ধু চত্তর।

এছাড়াও শতভাগ বিদ্যুত, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধীভাতা, মাতৃকালিন ভাতা, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এলইডি লাইট স্হাপন, ড্রেনেজ, গার্ড ওয়াল, পুল, কালভার্ট, আর সিসি ডালাই সড়ক, পাকা সড়ক, বিভিন্ন পুকুর গুলোতে গণঘাটলা ও গণশৌচাগার সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ওই সব ওয়ার্ডে আর সামান্য কিছু কাজ বাঁকি রয়েছে যা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে শেষ হবে।

পিডিএসও/এসএম শামীম