বৃষ্টি আর বানের ক্ষত নিয়ে সুন্দরগঞ্জে পালিত হবে ঈদুল আজহা, নেই উচ্ছ্বাস

প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২০, ১৫:৫৮ | আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২০, ১৬:১৭

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

বৃষ্টি আর কয়েক দফা বন্যার ক্ষত নিয়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এবারে উদযাপিত হতে যাচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মানুষের মাঝে নেই কোন উচ্ছ্বাস, নেই আনন্দ। করোনা সংকট যেন আরো নিরানন্দময় করে তুলেছে এ জনপদের শিশু,কিশোর,কিশোরী ও যুবকদের ঈদের আনন্দকে। আর এরাই তো উৎসবগুলোকে প্রাণবন্ত করে তোলার প্রধান নিয়ামক।

করোনা সংকটের কারণে সুন্দরগঞ্জ আদর্শ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠসহ অন্যান্য মাঠগুলোতেও নেই কোন সাজ সাজ রব। হবে মসজিদে মসজিদে ঈদের জামাত। বিগত কয়েক বছর যাবৎ বৃষ্টির খুব একটা দেখা না মিললেও এবারে কয়েক মাস ধরে বেশিরভাগ সময় চলছে বৃষ্টি। আর বৃষ্টির সাথে পাল্লা দিয়ে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে দুই দফা বন্যার ধকল শেষ হতে না হতেই কিছু দিন আগে দেখা দেয় তৃতীয় দফা বন্যা।

অনবরত বৃষ্টি আর কয়েক দফা বন্যায় নাকাল হয়ে পড়েছে তিস্তা বিধৌত এ জনপদের তারাপুর, বেলকা, কাপাসিয়া, শ্রীপুর, হরিপুর, চন্ডিপুর ও কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের চরাঞ্চলসহ বেশকিছু এলাকার মানুষ। বন্যার পানি কমে আসলেও দুর্ভোগ তেমন একটা কমেনি এসব বানভাসি মানুষের। জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছিলেন এবারের বন্যায়। এখনও চর এলাকার কিছু বসতবাড়িতে রয়ে গেছে বন্যার পানি ।

বন্যার ক্ষত এখনো পুরোপুরি কেটে উঠতে পারেনি এসব মানুষ। রিমঝিম বৃষ্টি এখনো অব্যাহত থাকায় মানুষের বসতবাড়ি , রাস্তাঘাট কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় ঈদের আনন্দে অনেকটাই ভাটা পড়বে বলে মনে হচ্ছে। বৃষ্টি ও বন্যার পাশাপাশি করোনা সংকটে নিম্ন আয়ের মানুষের আয় কমে যাওয়ায় ঈদের কেনাকাটায়ও পড়েছে তার প্রভাব।

কোরবানির পশুর দাম কিছুটা কম হলেও এবারে কোরবানির সংখ্যা কিছুটা কম হবে।গবাদিপশুর দাম কম ও গরুর ল্যাম্পি স্কিন রোগ দেখা দেয়ায় খামারী ও কৃষকদের মুখে নেই হাসির ঝিলিক। সব মিলিয়ে এবারে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মানুষের মাঝে যে উৎসাহ, উদ্দীপনা থাকার কথা তেমনটি পরিলক্ষিত হচ্ছে না এ জনপদের মানুষের মাঝে।