শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন
ডিজি-টেককে একীভূত করছে ওয়ালটন হাই-টেক

পুঁজিবাজারে প্রকৌশল খাতে তালিকাভুক্ত ইলেকট্রনিকস জায়ান্ট ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে দেশের শীর্ষ প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের একীভূতকরণ প্রক্রিয়াকে অনুমোদন দিলেন শেয়ারহোল্ডাররা। এর মধ্য দিয়ে প্রযুক্তিপণ্য খাতের শীর্ষ এই দুই প্রতিষ্ঠানের একীভূতকরণ প্রক্রিয়া কার্যকর করার লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন গ্রহণের লক্ষ্যে গত বুধবার ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিশেষ সাধারণ সভা বা ইজিএম আয়োজন করে। ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান এস এম শামছুল আলমের সভাপতিত্বে ইজিএমে ডিজি-টেক একীভূতকরণ প্রস্তাবনাকে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন প্রদান করেন ওয়ালটন হাই-টেকের শেয়ারহোল্ডাররা।
সভায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দেন ওয়ালটন হাই-টেকের ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলম, ম্যানেজিং ডিরেক্টর এস এম মাহবুবুল আলম, উদ্যোক্তা পরিচালক এস এম নূরুল আলম রেজভী ও এস এম রেজাউল আলম, পরিচালক এস এম মঞ্জুরুল আলম অভী, তাহমিনা আফরোজ, রাইসা সিগমা হিমা এবং সাবিহা জারিন অরনা, স্বতন্ত্র পরিচালক ড. সাদিকুল ইসলাম, এফসিএমএ এবং জোহরা বিবি। এ ছাড়া ওয়ালটন হাই-টেকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার মো. জিয়াউল আলম, এফসিএ, এসিএ (আইসিএইডব্লিউ), কোম্পানির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রাতিষ্ঠানিক এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডার ইজিএমে অংশ নেন। ইজিএম সঞ্চালনা করেন ওয়ালটন হাই-টেকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং কোম্পানি সচিব মো. রফিকুল ইসলাম।
সভায় অংশগ্রহণকারী শেয়ারহোল্ডারদের নিকট ডিজি-টেক একীভূতকরণ প্রস্তাবনার প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য এবং সুবিধাসমূহ তুলে ধরে ওয়ালটন হাই-টেকের চেয়ারম্যান এস এম শামছুল আলম বলেন, বাংলাদেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিকস ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন হাই-টেক পুঁজিবাজারের একটি কমপ্লায়েন্সনির্ভর, মৌলভিত্তিসম্পন্ন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে ওয়ালটন ডিজি-টেক ল্যাপটপ, কম্পিউটার, প্রিন্টার, মোবাইল ফোন, প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড (পিসিবি), ইলেকট্রিক বাইকসহ অসংখ্য আইসিটি পণ্য, এক্সেসরিজ এবং প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করছে।তিনি জানান, ডিজি-টেক একীভূতকরণের ফলে ওয়ালটন হাই-টেকের প্রোডাক্ট লাইন আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কোম্পানির বাজার সম্প্রসারণ, কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিচালন ব্যয় হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যার সুফল পাবেন ওয়ালটন হাই-টেকের শেয়ারহোল্ডাররা।
ইজিএমে শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশ্যে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, ওয়ালটন ডিজি-টেককে ওয়ালটন হাই-টেকের সঙ্গে একীভূত করার এই প্রস্তাবটি মূলত একটি সমৃদ্ধ আগামীর স্বপ্ন। এই সিদ্ধান্ত ওয়ালটনের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক কার্যক্রমকে আরও একধাপ এগিয়ে নেবে। এই একীভূতকরণ শুধু দুটি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় নয়, এটি আমাদের প্রযুক্তি, মানবসম্পদ, গবেষণা-উন্নয়ন সক্ষমতা এবং বাজার সম্প্রসারণ কৌশলকে একটি অভিন্ন শক্তিতে রূপান্তর ঘটাবে। এর ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ হবে দ্রুততর, সম্পদের ব্যবহার হবে আরও দক্ষ এবং শেয়ারহোল্ডারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে অধিক মূল্য সৃষ্টি হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু বাংলাদেশের বাজারে নেতৃত্ব দেওয়া নয়, বিশ্ববাজারে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত প্রযুক্তিপণ্যের একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে ওয়ালটনকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। আমরা বিশ্বাস করি, এই একীভূতকরণ সেই অগ্রযাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
ইজিএমে অংশগ্রহণকারী শেয়ারহোল্ডাররা ওয়ালটন ডিজি-টেক একীভূতকরণ প্রস্তাবনাকে সাধুবাদ জানান। ওয়ালটন হাই-টেকের প্রোডাক্ট লাইন আরও শক্তিশালী করা, হাই-টেকের ব্যবসায়িক পরিধি বৃদ্ধি এবং বাজার সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি, সম্পদের দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং পরিচালন ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে ওয়ালটন ডিজি-টেক একীভূতকরণের উদ্যোগকে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী, বিচক্ষণ ও সময়োপযোগী এক ব্যবসায়িক কৌশল হিসেবে অভিহিত করেন শেয়ারহোল্ডাররা। এমন উদ্যোগের জন্য ওয়ালটন হাই-টেক এবং ডিজি-টেকের পরিচালনা পর্ষদকে আন্তরিক অভিনন্দন এবং ধন্যবাদ জানান তারা।
ইজিএমে জানানো হয়, ওয়ালটন ডিজি-টেক একীভূতকরণের ক্ষেত্রে কোম্পানিটির ৩৮.৪৫ শেয়ারের বিপরীতে ওয়ালটন হাই-টেকের ১টি শেয়ার ইস্যু করা হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
"









































