মোংলা বন্দরে পড়ে আছে বছরের পর বছর

মামলায় আটকা গাড়ি নিলামে সাড়া নেই

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

বাগেরহাট মোংলা বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে আমদানিকৃত কয়েক হাজার রিকন্ডিশন গাড়ি। এর মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার গাড়ি নিলামযোগ্য হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রক্রিয়ায় তেমন সাড়া নেই ক্রেতাদের। এদিকে দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণের ফলে বন্দরে ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে গাড়ি। এই পরিস্থিতির জন্য আমদানিকারকদের করা মামলাকে দায়ী করছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

বন্দর সূত্র জানায়, রাজধানীর সঙ্গে দূরত্ব কম হওয়ায় ২০০৯ সাল থেকে দেশে আমদানি করা গাড়ি খালাস হয় মোংলা বন্দর দিয়ে। গত সোমবার পর্যন্ত গত ৯ বছরে এই বন্দর দিয়ে মোট গাড়ি আমদানি হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৮১৯টি। সে হিসাবে দেশে মোট আমদানির ৬০ ভাগ গাড়ি আসে মোংলা বন্দরে।

মোংলা কাস্টম হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) মো. মহিদ রিয়াদ জানান, মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ২ শতাধিক গাড়ি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। নিয়ম অনুযায়ী, আমদানি করা গাড়ি বন্দরে পৌঁছার ৩০ দিনের মধ্যে ছাড় করিয়ে না নিলে সেগুলো সরকারি নিলামের তালিকায় চলে যায়। পরে শুল্ক ও রাজস্ব আদায়ে কাস্টম কর্তৃপক্ষ তা নিলামে তোলে।

চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত গত এক বছরে বিভিন্ন ব্রান্ডের ৫ হাজার ৬৫৩টি রিকন্ডিশন গাড়ি নিলামে উঠে। এর মধ্যে মাত্র ছয়টি গাড়ি ক্রেতারা ছাড় করাতে পেরেছেন বলেও জানান তিনি। এছাড়া চলতি বছরের মার্চ মাসে নিলামে তোলা হয় ৫০টি গাড়ি। এর মধ্যে মাত্র দুটি গাড়ির জন্য দরপত্র জমা পড়লেও গাড়ি ছাড় হয়নি একটিও।

বন্দরের এআরও মহিদ রিয়াদ আরো বলেন, আমদানিকারকদের মামলার কারণে ক্রেতারা নিলামে গাড়ি কেনায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

বাংলাদেশ রিকন্ডিশন ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারবিডা) সভাপতি আবদুল হক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সময়মতো গাড়ি ছাড় করাতে না পারলে কেউ মামলায় যায় কি যায় না, আসলে আমি জানি না। হয়তো মামলা করা একটা মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার। এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

তবে মোংলা কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. হোসেন আহম্মেদ এ ব্যাপারে বলেন, আমরা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআরের সঙ্গে কথা বলেছি, আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে এই সমস্যার সমাধান করব।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ট্রাফিক পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাদের বন্দরে বিভিন্ন শেড ও ইয়ার্ডে ৩ হাজার ২৪টি গাড়ি আছে। বর্তমানে ২ হাজার ৬০০ গাড়ির মতো নিলামের তালিকায় আছে। যা নিলামযোগ্য। এর মধ্যে ৪৬৫টি গাড়ি ২০১১ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে আমদানিকৃত।’

এদিকে বন্দরের দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে গাড়ির যন্ত্রাংশ চুরি, গাড়ি খালাস করে তা নির্দিষ্ট গন্তব্যে নিয়ে যেতে অতিরিক্ত টাকা ব্যয়, কাস্টমস হাউস মোংলা বন্দরে না থাকাসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় ভোগান্তিতে পড়ছেন গাড়ি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, ২০১৫-১৬ (ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) অর্থবছরে মোংলা বন্দর থেকে খালাসকৃত গাড়ির সংখ্যা ৯ হাজার ৭৩৪টি। ২০১৬-১৭ (ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) অর্থবছরে ১০ হাজার ৪০৫টি খালাস হয়েছে; অর্থাৎ আগের অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে ৬৭১টি গাড়ি বেশি খালাস হয়েছে।

 

 

"