মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

  ৩ ঘণ্টা আগে

মোহনগঞ্জে পুড়ল ৩০০ মণ ধানসহ বাংলা ঘর

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে গভীর রাতে ভয়াবহ আগুনে এক কৃষকের প্রায় ৩০০ মণ ধান, দুটি পাওয়ার টিলার, সেচযন্ত্র, ডিজেল ও কৃষি সরঞ্জামসহ একটি বাংলো ঘর পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের দাবি, এ ঘটনায় প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বুধবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার সুয়াইর গ্রামের কৃষক ইয়াছিন চৌধুরীর বসতঘরের সামনে থাকা বাংলো ঘরে আগুনের এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, ‘বিষয়টি এখনো আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। খোঁজখবর নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।’

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, রাতের খাবার শেষে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ পাশের বাড়ির হবি মিয়া আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তার ডাক শুনে ইয়াছিন চৌধুরী ঘুম থেকে উঠে ঘরের চালার ওপর আগুনের শিখা ও ধোঁয়া দেখতে পান। পরে তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হলে স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় ঘরে থাকা ধান, কৃষি যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য মালামাল বের করে আনা সম্ভব হয়নি। মুহূর্তের মধ্যেই বাংলো ঘরটি আগুনে পুড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, আগুনে প্রায় ৩০০ মণ ধান, দুটি পাওয়ার টিলার, সেচকাজে ব্যবহৃত তিনটি মেশিন, প্রায় ২৬০ লিটার ডিজেল, বিভিন্ন কৃষি সরঞ্জাম ও মূল্যবান আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। ঘরের ভেতরে ড্রামে সংরক্ষিত ডিজেল থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়।

ভুক্তভোগী কৃষক ইয়াছিন চৌধুরী বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে হাজার মণ ধানের আবাদ করেছিলাম। কিন্তু বন্যার পানিতে সেই ফসল তলিয়ে যায়। পরে ডুবে যাওয়া জমি থেকে কষ্ট করে প্রায় ৩০০ মণ ধান সংগ্রহ করে ঘরে তুলেছিলাম। ভেবেছিলাম ধান বিক্রি করে লোকসানের কিছুটা পুষিয়ে নেব। কিন্তু আগুনে সেই স্বপ্নও শেষ হয়ে গেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার দুটি পাওয়ার টিলার, সেচযন্ত্র, ডিজেল, কৃষি সরঞ্জাম ও আসবাবপত্রসহ সবকিছু পুড়ে গেছে। আমি এখন একেবারেই নিঃস্ব। সরকারের সহযোগিতা পেলে হয়তো আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারব।’

মোহনগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার কামরুজ্জামান সুমন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে ঘর ও ভেতরে থাকা ধানসহ সব মালামাল পুড়ে যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি আমরা দেখতে পাই। এলাকার রাস্তা সরু হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি নিয়ে সরাসরি ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।’

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়