নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালী হাসপাতাল
লক্ষণীয় পরিবর্তন নেই তদন্তকাজ চলছে

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে গত মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন শেষে অনিয়মের প্রমাণ মেলায় হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়কের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেনকে। তবে গতকাল বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গতকাল বুধবার পর্যন্ত তেমন কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনেনি।
জানা গেছে, মন্ত্রীর পরিদর্শনের পরও হাসপাতালে আসেনি কোনো পরিবর্তন। আগের মতোই চলছে সবগুলো ওয়ার্ড। অনেক ওয়ার্ডে গতকাল দুপুরের পর থেকে কোনো চিকিৎসকের দেখা মেলেনি। এদিকে মৌখিকভাবে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ার পর গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় হাসপাতাল পরিদর্শন করেন সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন।
সরজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে এখনো ময়লা পানি ও বর্জ্য পড়ে আছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ, আজও বাড়তি টাকা না দিলে মিলছে না চিকিৎসাসেবা। প্রত্যেকটি বেড নিতেই দিতে হচ্ছে টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সরকারি চাকরিপ্রার্থী যারা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যোগদানের জন্য মেডিকেল রিপোর্ট করাতে হাসপাতালে এসেছেন তাদের থেকে বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন। এক্সরে করাতে সরকারি ফি ২০০ টাকার স্থলে তাদের থেকে ৩০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া অন্যান্য টেস্ট করাতেও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে তাদের অভিযোগ। এ বিষয়ে দুজন ভুক্তভোগী সরাসরি সিভিল সার্জনের কাছে গিয়েই অভিযোগ করেছেন। সিভিল সার্জন তাৎক্ষণিক বিষয়টি খোঁজ নিলে অতিরিক্ত টাকাগুলো তাদের ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
হামের আইসোলেশন ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেখানেই গত তিন দিন কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরিদর্শন করেননি। মেডিকেল অফিসাররাই দিনে একবার রোগীদের দেখতে যান। সারা দিনে রোগীরা আর কোনো চিকিৎসকের দেখা পান না।
জসিম হোসেন নামে এক রোগীর স্বজন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি চিকিৎসাসেবা নিতে। গরমের ভেতর অনেক কষ্টে আমাদের এখানে থাকতে হয়। কিন্তু এখানে ডাক্তারদের দেখা পাওয়া যায় না। দিনে একবার মেডিকেল অফিসাররা আসেন। অন্য সময় আমাদের রোগীদের অবস্থা খারাপ হলেও তাদের আর পাওয়া যায় না। সবাই বাইরে চেম্বার করা নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। আমরা রোগীদের চিকিৎসার কথা ভেবে ভয়ে কিছু বলতেও পারি না।’
কোম্পানীগঞ্জের চর বালুয়া থেকে আসা আবু জাকের তার ৪ বছরের ছেলে জোবায়েরকে গত তিন দিন আগে হামের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল বেলা ১১টায় একবার ডাক্তার এসেছিল আজ সকাল ১০টা বাজে এখন পর্যন্ত কোনো ডাক্তারের দেখা পাইনি।’ হাসপাতালে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নোয়াখালী জেলার সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি মৌখিকভাবে হাসপাতালের দায়িত্ব পেয়েছি। এখনো লিখিত কোনো অর্ডার পাইনি। তবুও আমি আজ সকাল ৯টায় হাসপাতালে এসে এখানের চিকিৎসক সবার সঙ্গে কথা বলেছি। বিভিন্ন বিভাগে গিয়েছি এবং পুরো হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। হাসপাতালে জনবল শংকট যেমন রয়েছে পাশাপাশি অনেক ধরনের অনিয়মও রয়েছে। আমরা অনিয়মগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি এবং অনিয়মগুলো চিহ্নিত করে এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
"





































