যশোর প্রতিনিধি
দুপুর মানেই আগুনের ছ্যাঁকা

গ্রীষ্মের খরতাপে পুড়ছে যশোরের প্রাণ-প্রকৃতি। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা মৃদু তাপপ্রবাহের পর এখন জেলার ওপর দিয়ে বইছে মাঝারি তাপপ্রবাহ। তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।
যশোর বিমান ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণাধীন আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার যশোরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার ছিল ৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি। ওই দিন দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে, ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি। আবহাওয়া অফিস বলছে, এই অবস্থা আরো কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
দুপুর মানেই আগুনের ছ্যাঁকা : দুপুরের দিকে যশোরের রাস্তা-ঘাট, মাঠ-প্রান্তর হয়ে ওঠে মরুভূমি। ঘরের বাইরে পা রাখলেই গায়ে লাগে আগুনের হল্কা। ছাতা মাথায় দিয়েও রক্ষা মিলছে না। খোলা আকাশের নিচে হাঁটলে গরম বাতাস শরীর ঝলসে দিচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। রিকশা চালাতে চালাতে ক্লান্ত হয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে জিরিয়ে নিচ্ছেন অনেকে। কেউ হাতে-মুখে পানি দিচ্ছেন, কেউ শরবত-স্যালাইনে শরীর ঠাণ্ডা রাখার চেষ্টা করছেন।
রিকশাচালক কাশেম আলী বলেন, ‘গরমে রিকশা চালালে গায়ে যেন আগুনের ছ্যাঁকা লাগে। তারপরও পেটের দায়ে চালাতে হচ্ছে। কিন্তু গরমে মানুষ বাইরে কম বেরোচ্ছে, ভাড়া পাচ্ছি না।’
শহরের পালবাড়ী এলাকার আরেক রিকশাচালক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘একটু চালালেই ঘামে গা ভিজে যায়। মাথা ঘুরে ওঠে। তবু থামার উপায় নেই।’
আখের রসের দোকানে ভিড়, কিন্তু বিক্রেতার স্বস্তি নেই : তীব্র গরমে চাহিদা বেড়েছে আখের রস, শরবত আর স্যালাইনের। যশোর শহরের লালদীঘিপাড়ের বিক্রেতা কালাম হোসেন জানান, মানুষ আসছে রস খেতে। কিন্তু রাস্তায় দাঁড়িয়ে রস বিক্রি করাই দায়। ছায়া খুঁজে দাঁড়াতে হচ্ছে। কৃষি শ্রমিকরাও পড়েছেন বিপাকে। ক্লান্ত শরীর নিয়ে ক্ষেতের আইলে, গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছেন তারা। দুপুরের কড়া রোদ এড়াতে কাজের সময়ও বদলাচ্ছেন অনেকে। শহরের কিশোর-যুবকরা স্বস্তি পেতে দলবেঁধে ছুটছে গ্রামের নলকূপে গোসল করতে।
রেকর্ডের পাতায় যশোর : আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ৩০ জুন যশোরে তাপমাত্রা উঠেছিল ৪৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আর দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ১৯৭২ সালের ১৮ মে, রাজশাহীতে- ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
টানা তাপপ্রবাহে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনো, পর্যাপ্ত পানি-স্যালাইন পান আর মাথা ঢেকে চলার পরামর্শ।
"






































