দুলাল বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ

  ৮ ঘণ্টা আগে

গোপালগঞ্জ

ঐতিহ্য হারিয়ে আতিয়ার খাল এখন বর্জ্যের ভাগাড়

গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারের সামনে অবস্থিত আতিয়ার খাল একসময় ছিল একটি প্রবাহমান ও প্রাণবন্ত জলধারা। মধুমতি নদীর সঙ্গে সংযুক্ত এই খালটি এলাকার পানি নিষ্কাশন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। বর্ষাকালে খালটি নদীর অতিরিক্ত পানি ধারণ করত এবং শুষ্ক মৌসুমেও পানির প্রবাহ বজায় থাকত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে আতিয়ার খালের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা,

দখল এবং বর্জ্য ফেলার কারণে খালটি এখন

প্রায় মৃত। একসময়ের স্বচ্ছ জলধারা আজ আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট হয়ে গেছে এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে পড়েছে।

খালটির সঙ্গে মধুমতি নদীর সংযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় পরিবেশগত নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পানি প্রবাহ না থাকায় খালের পানিতে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হচ্ছে, জন্ম নিচ্ছে মশা-মাছি। এতে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে খালভিত্তিক মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর আবাসস্থলও ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় এলাকাবাসীর দাবি, গোপালগঞ্জের আতিয়ার খালের পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদ বলেন, একটি শহরের খাল শুধু পানি বহনের মাধ্যম নয়; এটি শহরের প্রাকৃতিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম উপাদান। আতিয়ার খালের বর্তমান অবস্থা শুধু একটি খালের সংকট নয়, এটি পুরো এলাকার পরিবেশগত সংকটের প্রতিচ্ছবি।

জেলা কালচারাল অফিসার ফারহান কবির সিফাত বলেন, খালটি পুনরুদ্ধারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। খননের মাধ্যমে খালের নাব্য ফিরিয়ে আনা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, আবর্জনা ফেলা বন্ধ করা এবং মধুমতি নদীর সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপন করা গেলে আতিয়ার খাল আবারো তার হারানো প্রাণ ফিরে পেতে পারে।

জেলা প্রশাসক আরিফ-উজ-জামান বলেন, প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে এখনই আতিয়ার খালকে বাঁচানোর উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ একটি খাল বাঁচলে বাঁচবে পরিবেশ, বাঁচবে শহর, বাঁচবে আগামী প্রজন্ম। গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেই খালটি সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়