চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
নুনজুড়ি খাল দখল করে দোকান নির্মাণ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের পাতড্ডা বাজারে অবস্থিত নুনজুড়ি খাল দখল করে অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণের অভিযোগ ওঠেছে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এতে চলতি বর্ষায় খাল দিয়ে দ্রুত পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় তিন ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ২০ হাজার মানুষকে ১৮ দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় জীবন যাপন করতে হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের লগুনন্দন পর্বত মালা থেকে বয়ে আসা প্রায় ৭ কিলোমিটারের নুনজুড়ি খালটি মিশেছে পশ্চিমের ডাকাতিয়া নদীর সঙ্গে। ফলে অনায়সে এই অঞ্চলের কৃষকরা শুষ্ক মৌসুমে খালের পানি দিয়ে ব্যাপক ফসলাদি উৎপাদন করতে পারত। বর্তমানে ১৫ থেকে প্রায় ২৫ জন দখলদার খালের ওপর দোকানপাট নির্মাণ করায় অস্তিত্ব হারাতে বসেছে নুনজুড়ি খাল।
বর্তমানে চিওড়া, কনকাপৈত ও বাতিসা ইউনিয়নের দূর্গাপুর, কালিকসার, প্রান্তিক কৃষকরা অভিযোগ করে জানান, পাতড্ডা, কুলিয়ারা, লুদিয়ারা, কালকোর্ট, আতাকরা, হেংঙ্গুলা, সারপুটি, কৃঞপুর সনপুর গুর্ণিশকরা ও সুজাতপুর সহ আশপাশের কৃষকরা এই খাল ভরাট থাকায় পানি ব্যবহার করতে পারছে না। বর্ষা মৌসুমে খালে টইটুম্বুর পানি থাকত। তা দিয়ে শুষ্ক মৌসুমে ব্যাপক শীতকালিন শাক সবজি উৎপাদন করত কৃষকরা। বর্তমানে এটি খাল নাকি ড্রেন, তা দেখে চেনার উপায় নেই। বিশেষ করে পাতড্ডা বাজারের উত্তর অংশে খালের ওপর পাকা স্থাপনা নির্মাণ করায় বর্ষাতে পানির ¯্রােত ঠিকভাবে নিষ্কাশিত না হওয়ায় ফসল নষ্ট হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে খালটিতে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।
চিওড়া ইউনিয়নের সারপুটি গ্রামের কৃষক ইউছুপ বলেন, নুনজুড়ি খালটি এখন আর খুঁেজ পাওয়া যচ্ছে না। প্রভাবশালীরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে খালটিকে গিলে ফেলেছে। বাড়িঘর নির্মাণ করার কারণে বর্তমানে কৃষকরা কৃষি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
নুনজুরি খাল দখল করে দোকান নির্মাণের বিষয়ে কুলিয়ারা গ্রামের ডালিম বলেন, আরএস,বিএস সব আমাদের নামে। প্রতিবছর আমরা সরকারকে খাজনা পরিশোধ করি। তাই খাল দখলের প্রশ্নই ওঠেনা।
বাতিসা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বলেন, যারা নুনজুড়ি খাল দখল করেছে অতি শীঘ্রই তাদের উচ্ছেদ করা হবে। সরকারি জায়গা দখলে নেওয়ার কারো অধিকার নেই। খালটিকে খনন করে পূর্বের ন্যায় কৃষকের স্বপ্ন বজায় রাখতে জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ বলেন, বর্তমানে খালটি কী অবস্থায় আছে জরিপ করব। কৃষকের সুবিধার জন্য নুনজুড়ি খালকে খননের প্রক্রিয়ায় আনতে চেষ্টা করব। যাতে কৃষকরা খালের পানি ব্যবহার করে ফসলাধি উৎপাদন করতে পারে।
"





































