৩০ বছর পর জলাবদ্ধমুক্ত হলো হাজার বিঘা জমি

মেহেরপুরে জিয়াল খাল থেকে বাঁধ অপসারণ

প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

দিলরুবা খাতুন, মেহেরপুর

মেহেরপুর পৌর মেয়রের সাহসি উদ্যোগে ১ হাজার বিঘার জলাবদ্ধতা দূর হলো। এসব জমিতে এখন তিনটি করে ফসল উৎপাদন হবে। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে পানি নিষ্কাশনের খালে বাঁধ দিয়ে মেহেরপুরের জিয়ালা বিলে মাছ চাষ করছিল স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল। ওই বিল পাড়ের কৃষকদের অনুরোধে পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটনের নেতৃত্বে কৃষকরা গতকাল বুধবার পানি নিষ্কাশনের বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশন করে। এতে করে খাল এলাকার আবাদি জমি প্রভাবশালীদের দখলমুক্ত হলো। সেই সঙ্গে এসব জমিতে এখন বছরে তিনটি করে ফসল উৎপাদন হবে।

জানা গেছে, মেহেরপুর পৌর এলাকায় কালাচাঁদপুর ও সদর উপজেলার উজ্জ্বলপুর অংশে জিয়ালা খাল। এই খালের পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি খাল ভৈরব নদের সঙ্গে সংযোগ ছিল। সেই খালে বাঁধ দিয়ে পৌর এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল প্রায় ৩০ বছর ধরে মাছ চাষ করছিল।

ফলে বিলপাড়ের প্রায় এক হাজার বিঘা জমিতে আমন ধান ছাড়া কোনো আবাদ হচ্ছিল না। এ ব্যাপারে উজ্জ্বলপুর ও কালাচাঁদপুরের কৃষকরা মেহেরপুর জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। কৃষকরা পানি নিষ্কাশনের বাঁধ অপসারণ ও মাছচাষ বন্ধে মেয়রের হস্তক্ষেপ চান। পরে মেয়র ২ লাখ টাকা ব্যয়ে পানি নিষ্কাশনের খাল পুনর্খনন ও বাঁধ কেটে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। বুধবার বিকালে দুটি গ্রামের শত শত কৃষকদের নিয়ে সেই বাঁধ কেটে দেন মেয়র। এ সময় খালপাড়ের জমি থেকে পানি নেমে যাওয়াতে কৃষকরা আনন্দে মেতে ওঠে।

কারো নাম উল্লেখ না করে কালাচাঁদপুর গ্রামের কৃষক চঞ্চল হোসেন জানান, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে প্রভাবশালীরা পানি নিষ্কাশন খালে বাঁধ দিয়ে জিয়ালা বিলে মাছ চাষ করছিল। এখন তারা জলাবদ্ধতা দূর হওয়াতে বছরে তিনটি করে ফসল উৎপাদন করতে পারবেন।

মেহেরপুর পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন জানিয়েছেন, ওই মাঠ থেকে কৃষকরা যাতে সহজেই উৎপাদিত ফসল ঘরে তুলতে পারে সেজন্য পৌরসভা থেকে একটি স্থায়ী রাস্তা করে দেবেন।

বাঁধ অপসারণ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার প্যানেল মেয়র শাহিনুর রহমান রিটন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাকিল রাব্বি ইভান, কালাচাঁদপুর জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আইয়ুব আলী প্রমুখ।

 

 

"